আকাশপথে বেড়েছে ভাড়া, কমছে যাত্রী, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন খাত

-মনিটর রিপোর্ট  Date: 03 October, 2022
bo3.jpg

উড়োজাহাজে ভাড়ার ৪০ শতাংশ নির্ধারিত হয় জেট ফুয়েলের দামের ওপর ভিত্তি করে। 
গত প্রায় দুই বছরে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে হয়েছে আকাশচুম্বী। এতে আকাশপথে বেড়েছে খরচ, কমছে যাত্রীসংখ্যা। পাশাপাশি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অপার সম্ভাবনার পর্যটন খাত। 
    দুই বছর আগেও প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৪৬ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে লিটারপ্রতি জেট ফুয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। গত ২০ মাসে জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ। জেট ফুয়েলের এমন উচ্চমূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বাড়িয়েছে  ভাড়া। ভাড়া বাড়ায় আকাশপথে কমে এসেছে যাত্রীসংখ্যা। এতে করে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশের সরকারী-বেসরকারী উড়োজাহাজ  সংস্থাগুলো।


 

ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বলছে, দুই বছর আগে অভ্যন্তরীণ যে রুটের সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল দুই থেকে আড়াই হাজার, একই রুটে বর্তমানে ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজারে।
     উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, সৈয়দপুর, রাজশাহীতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এসব রুটের ভাড়াও বেড়েছে দ্বিগুণ হারে। ধারণা করা হচ্ছে, এভাবে ভাড়া বাড়তে থাকলে যাত্রীভাবে দেশের উদীয়মান পর্যটনখাত মারাত্মক  ক্ষতির সম্মুখীন হবে, লোকসান গুনতে হবে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে পর্যটন বিশ্বব্যাপী একক বৃহত্তম শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
 অপরদিকে, বাংলাদেশে থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাবার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রুটেও উড়োজাহাজ ভাড়া এতোটাই বেড়েছে যেটিকে অনেক 'অস্বাভাবিক' হিসেবে বর্ণনা করছেন।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান ভাড়া সবচেয়ে বেশি বেশি বেড়েছে বলে ট্রাভেল এজেন্ট এবং যাত্রীরা বলছেন।
    তারা বলছেন, "নিম্ন আয়ের মানুষ যারা বিদেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান তাদের তো ইনকাম বাড়েনি। কিন্তু তাদেরকে এই বাড়তি বিমান ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এটা তাদের উপর আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি করছে।" 
   পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, যখন প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৪৬ টাকা ছিল তখন ঢাকা-যশোর রুটের সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল দুই হাজার ৭০০ টাকা। সেটি এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৮০০ টাকায়। একইভাবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল তিন হাজার ৭০০ যা এখন পাঁচ হাজার ৮০০ টাকা। দুই হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ঢাকা-সৈয়দপুরের ভাড়া এখন চার হাজার ৮০০ টাকা। চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীর ভাড়া হয়েছে সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। করোনার আগে যা ছিল দুই হাজার ৭০০ টাকা।
   জেট ফুয়েলের দামের ওপরই ফ্লাইট ভাড়াসহ উড়োজাহাজ পরিচালনার সবকিছু নির্ভর করে বলে জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে নতুন করে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায়, ফ্লাইট ভাড়া আরও বাড়বে। এতে করে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীসংখ্যা আরও কমে আসবে।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিভিন্ন সূত্র বলছে,
   জেট ফুয়েলের দাম নিয়ন্ত্রণে ভর্তুকি চাচ্ছে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে জেট ফুয়েলে কোনো ধরনের ভর্তুকি দেয়া হবে না। 
   তাদের বক্তব্য, উড়োজাহাজে যারা যাতায়াত করেন তাদের প্রায় সবাই সমাজের সামর্থবান। সমাজের উচ্চবিত্তদের জন্য ভর্তুকি দেয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন বিপিসি কর্মকর্তারা।
-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor

Subscribe Us

Please Subscribe and get updates in your inbox. Thank you.