সাগরে মহড়া - রুট পরিবর্তনে বাধ্য হয় ৪৯ উড়োজাহাজ

- মনিটর ডেস্ক রিপোর্ট Date: 26 February, 2025
সাগরে মহড়া - রুট পরিবর্তনে বাধ্য হয় ৪৯ উড়োজাহাজ

মেলবোর্ন : গত সপ্তাহে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কাছে তাসমান সাগরে চীন ‘অস্বাভাবিক’ সামরিক মহড়া চালিয়েছে। চীনা যুদ্ধজাহাজ অপ্রত্যাশিতভাবে ‘লাইভ-ফায়ার’(সরাসরি গোলাগুলি) মহড়ার ঘোষণা দিলে বহু বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। কর্মকর্তারা এক সরকারি শুনানিতে এ কথা জানিয়েছেন।

চীনের এমন সামরিক মহড়ার কারণে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের উদ্বেগ কিছুটা বেড়ে গেছে।

বিশেষ করে তাসমান সাগরে চীনা নৌবাহিনীর বিরল উপস্থিতির কারণে এ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশগুলো বলছে, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস উপকূলে সামরিক মহড়া সম্পর্কে চীনের নৌবাহিনীর কাছ থেকে পর্যাপ্ত নোটিশও তারা পায়নি। সামরিক মহড়ার কারণে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে চলাচলকারী উড়োজাহাজগুলোকে অন্য দিক দিয়ে ঘুরে যেতে হয়েছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা বারবার আগে থেকে নিরাপত্তা নোটিশ জারি করেছে এবং তাদের সব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া বলেছে, মহড়াগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় হয়েছিল। যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই মহড়া চালানোর জন্য বেইজিংয়ের সমালোচনা করেছে দেশটি।

সাধারণত পাইলটদের সামরিক মহড়া, রকেট উৎক্ষেপণ এবং আকাশসীমা প্রভাবিত হতে পারে এমন অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে ‘নোটিস টু এয়ারম্যান বা এনওটিএএম’-এর মাধ্যমে সতর্ক করা হয় এবং তা দেওয়া হয় এ ধরনের ঘটনার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে। 

তিনটি চীনা যুদ্ধজাহাজ শুক্র এবং শনিবার ধারাবাহিক নৌ মহড়া পরিচালনা করে।

অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডকে সংযুক্তকারী একটি ব্যস্ত উড়োজাহাজ চলাচলের পথের নিচের এই মহড়া চালানো হয়। পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির একটি ফ্রিগেট, ক্রুজার এবং রিপ্লেনিশমেন্ট জাহাজ অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক পথে প্রবেশ করে এবং গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে ভ্রমণ করে।
 
অস্ট্রেলিয়ার উড়োজাহাজ নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চীনা নৌকা থেকে সম্প্রচারিত সতর্ক বার্তায় প্রথম মহড়া সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। এয়ার সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ পিটার করান সোমবার সন্ধ্যায় এক সরকারি শুনানিতে বলেন, ‘তখন আমরা বিষয়টি বুঝতে পারছিলাম না আসলে কী হচ্ছে।’ সতর্কতাটি বাণিজ্যিক পাইলটদের পর্যবেক্ষণ করা ফ্রিকোয়েন্সিতে সম্প্রচার করা হয়েছিল।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিমান ট্র্যাফিক কন্ট্রোলাররা এটি প্রচার করেনি বলে করান বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক গার্ড ফ্রিকোয়েন্সি। উড়োজাহাজ ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ সেই ফ্রিকোয়েন্সি পর্যবেক্ষণ করে না, তবে পাইলটরা করেন। তাই আমরা কী বলা হয়েছিল, তা শুনতে পাইনি।’

তিনি আরো বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের অঞ্চলের কাছে সামরিক মহড়া পরিচালনাকারী ফরাসি প্রতিরক্ষা বাহিনী সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে অস্ট্রেলিয়ার উড়োজাহাজ চলাচলকে অবহিত করে।

করান জানান, সতর্কতাটি সত্য, এটা স্পষ্ট হওয়ার পরে ৪৯টি বাণিজ্যিক ফ্লাইটকে সরাসরি গোলাগুলির অঞ্চল থেকে চারপাশে ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু উড়োজাহাজ আকাশে আবস্থানরত অবস্থায় জানতে পেরেছিল।

একজন বাণিজ্যিক পাইলটকে চীনা নৌবাহিনীর টাস্কফোর্সের সতর্কতা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে কি না, সাংবাদিকের এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। মঙ্গলবার আলবানিজ সাংবাদিকদের বলেন, আমি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে কী ঘটেছে তা নিয়ে কথা বলছি। অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র এবং আকাশপথে এই চীনা জাহাজের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ফ্রিগেট রয়েছে।

এদিকে, এই মাসের শুরুতে একটি চীনা যুদ্ধবিমান দক্ষিণ চীন সাগরে টহলরত অস্ট্রেলিয়ান বিমানবাহিনীর একটি নজরদারি বিমানের পথে ‘ফ্লেয়ার’ নিক্ষেপ করেছিল (প্রজেক্টাইল ফ্লেয়ারে বিস্ফোরণ ঘটে না, উজ্জ্বল আলোর সৃষ্টি করে)। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান বিমানটি ‘চীনের অনুমতি ছাড়াই’ এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor