চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটারেজ সংকটের কারণে মাদার ভেসেল থেকে আমদানিপণ্য খালাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে এবং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে জাহাজ-জটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাস সামনে রেখে ভোগ্যপণ্য নিয়ে একসঙ্গে অনেক মাদার ভেসেলের আগমন, বেশ কয়েকটি লাইটারেজে যান্ত্রিক ত্রুটি, বিভিন্ন ঘাট ও নৌরুটে পণ্য নিয়ে লাইটারেজ দিনের পর দিন বসে থাকা, বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় লাইটারেজের মোংলা বন্দরমুখী হওয়াসহ নানা কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বন্দরের বহির্নোঙরে আমদানি পণ্যের ১২১টি জাহাজ ছিল। এর মধ্যে ৭৫টিতে খালাসের কাজ চলছে। আর ৪৯টি খালাস কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, রমজান সামনে রেখে প্রচুর খাদ্যপণ্য আমদানি হওয়ায় মাদার ভেসেলের চাপ বেড়ে গেছে। পণ্য খালাস করার মতো প্রয়োজনীয়সংখ্যক লাইটারেজ পাওয়া যাচ্ছে না।
লাইটারেজ জাহাজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল (ডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা শতাধিক মাদার ভেসেলে প্রতিদিন তিন-চারটি করে ধরলেও তিন-চারশ লাইটারেজের চাহিদা আছে। সেখানে নানা কারণে দিনে এক শটিও পাওয়া যাচ্ছে না।
ডব্লিউটিসির সহকারী পরিচালক টিংকু পাল জানান, প্রতিষ্ঠানটির অধীনে প্রায় ১ হাজার ২০০ লাইটারেজ থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেরামতের জন্য ডকে রয়েছে একশটির মতো। পণ্য নিয়ে বিভিন্ন ঘাট ও নৌপথে আছে পাঁচ শ থেকে ছয় শটি। এ ছাড়া মোংলা বন্দরে আছে দুই শটির মতো। মোংলায় ভাড়া তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায় বলে সেখানে চলে যাচ্ছে অনেক লাইটারেজ।
-B