ঢাকাঃ বিশ্বজুড়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে (আইসিটি) চলতি বছর ব্যয় প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে ছাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৯ সালের মধ্যে এ ব্যয় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষে থাকবে প্রতিরক্ষা খাত ও এআই প্রযুক্তি।
বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) সর্বশেষ ওয়ার্ল্ডওয়াইড আইসিটি স্পেন্ডিং গাইডে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ভোক্তাদের জন্য তৈরি পণ্য ও সেবা (যেমন ব্যক্তিগত ফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদি) বাদ দিলে ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক আইসিটি বাজার ২০২৬ সালে প্রায় ১০ শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধির মূল কারণ হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজের ক্ষেত্রে এখন এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াছে।
আইডিসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষের দিকে এআই প্লাটফর্মে বিনিয়োগ আগের তুলনায় ৭০ শতাংশেরও বেশি বাড়বে।
গবেষণা সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালে আইসিটি খাতে ব্যয় করা সবচেয়ে বড় অংশই যাবে সফটওয়্যারের পেছনে। বৈশ্বিক আইসিটি ব্যয়ের ৩৩ শতাংশেরও বেশি এ খাতে ব্যয় হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এ প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (ইআরএম) অ্যাপ্লিকেশন, নিরাপত্তা সফটওয়্যার এবং উৎপাদন ও পরিচালনা বিষয়ক সফটওয়্যারে শক্তিশালী বিনিয়োগ।
আইডিসির মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতি অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এছাড়া ২০২৬ সালে আইসিটি খাতের বিভিন্ন অংশের মধ্যে হার্ডওয়্যারে প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি হবে। সফটওয়্যার, সেবা বা নেটওয়ার্কের তুলনায় হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ ও বাজার বিস্তারের গতি হবে দ্রুততম। এ সময়ে উপখাতটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হার ১৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
আইডিসির সিনিয়র ডিরেক্টর আন্দ্রিয়া সিভিয়েরো বলেন, ‘আমরা এখন সবখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা “এআই-এভরিহোয়্যার” যাত্রার এক নতুন ধাপে প্রবেশ করছি; যা হলো প্রত্যাশা ও হিসাব-নিকাশের যুগ।’
তিনি আরো বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রাথমিক উত্তেজনা এখন ম্লান হয়ে আসছে। তার বদলে গুরুত্ব পাচ্ছে জবাবদিহিতা এবং উৎপাদনশীলতার ওপর এর প্রভাব। ২০২৬ সালে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি হবে, এআই ও ডিজিটাল বিনিয়োগগুলো যেন দৃশ্যমানভাবে কর্মপ্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ত্বরান্বিত করে এবং সর্বোপরি পুরো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে।’
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যেমন বাণিজ্য শুল্কের বৃদ্ধি, নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মস্থল বন্ধ থাকার পরিস্থিতি বিভিন্ন সংস্থাকে এআই-ভিত্তিক অপটিমাইজেশন ও নিরাপত্তায় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে বাধ্য করেছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নও ডিজিটাল রূপান্তর এবং নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালে বৈশ্বিক আইসিটি খাতে শীর্ষে থাকবে। এ খাতে দেশটির ব্যয় পৌঁছবে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ক্লাউড ও এআই প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণের কারণে সম্ভব হবে। এরপর পশ্চিম ইউরোপ হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার, যেখানে ব্যয় হবে ৯০৮ বিলিয়ন বা ৯০ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।
আইডিসির রিসার্চ ম্যানেজার আন্দ্রেয়া মিনোনে বলেন, ‘কোম্পানিগুলো যখন অটোমেশনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন অ্যারোস্পেস ও ডিফেন্স (প্রতিরক্ষা), বীমা এবং সফটওয়্যার ও তথ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলো এআই প্লাটফর্মে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ব্যয় বাড়াতে প্রস্তুত।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন যে অ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা খাতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
-B