চাঁদের পর এতদিন নজরে ছিল মঙ্গল। এবার নাসার নজর এসে পড়েছে সৌরমণ্ডলের আরেক সদস্যের ওপর। ‘ইনি’ শনি গ্রহের উপগ্রহ, টাইটান। পরবর্তী পরিকল্পনায় এই টাইটানেই অভিযানের পরিকল্পনা করেছে নাসা। আর এর জন্য ঠিক করা হয়েছে ‘ড্রাগনফ্লাই’-কে, অর্থাৎ কিনা ফড়িং! যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব নেই বলে জানে সবাই, সেখানে কিনা একটি পোকাকে পাঠানো হচ্ছে!
সূর্যের দিক থেকে সৌরজগতের ষষ্ঠ গ্রহ শনি। শনি গ্রহে চাঁদের সংখ্যা ৬২টি। ৬২টি উপগ্রহের মধ্যে বৃহত্তম টাইটান। সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপগ্রহ এটি। চাঁদের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বড় এই উপগ্রহ।
পৃথিবী ও টাইটানের প্রিবায়োটিক রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সাদৃশ্য খুঁজে পেতে নাসার এই অভিযান।আটটি রোটরসহ এই যানের ওড়ার পদ্ধতি অনেকটাই ড্রোনের মতো। টাইটানের বিভিন্ন অংশে ঘুরে নাসার এই যান একাধিক নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।
২০২৬ সালে পৃথিবী থেকে পাঠানো হবে ড্রাগনফ্লাই। ২০৩৪ সাল নাগাদ টাইটানে পৌঁছবে যানটি। নাসা তাদের টুইটারে এই অভিযানের কথা ঘোষণা করে। এই প্রথম সৌরজগতে ঘটা কোনও অভিযানে ড্রোনের মতো দেখতে উড়তে সক্ষম যান পাঠাচ্ছে নাসা। টাইটান অভিযানের একটি কাল্পনিক ভিডিও প্রকাশ করে নাসা জানায়, তাদের পরবর্তী গন্তব্য শনির বৃহত্তম উপগ্রহ।
নাসার ওয়েবসাইটে জানানো হয়, টাইটানের বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তুলনায় চার গুণ বেশি ঘন। টাইটানের পৃষ্ঠের উপাদানের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টাইটানের বিভিন্ন অংশে রোটরের সাহায্যে উড়ে যাবে ড্রাগনফ্লাই। টাইটানে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার অঞ্চল ঘুরবে ড্রাগনফ্লাই।
নাসার মতে, টাইটানের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে পৃথিবীর সৃষ্টির সময়কার অবস্থার অনেক মিল আছে। এই অভিযানের মাধ্যমে টাইটানের সেই বৈশিষ্ট্যগুলিই খতিয়ে দেখতে চাইছে নাসা। এই অভিযানের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি সংক্রান্ত অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা।