কল্পনা নয় বাস্তবে দেশে প্রথমবারের মত সমুদ্রের বুক ছুঁয়ে হচ্ছে রানওয়ে|প্রায় এক হাজার পাঁচশ আটষট্টি কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে সমুদ্রের ওপর মহেশখালী চ্যানেলের দিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে নতুন রানওয়ে।
সমুদ্রের নোনা জলের ঠিক ওপরেই উড়োজাহাজটি অবতরণের প্রস্তুতি নেবে। রানওয়ে স্পর্শ করার তিন সেকেন্ড আগে সেটি বিমানবন্দরে প্রবেশ করবে। পৃথিবীর উপকূলীয় শহরে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে এই বিমানবন্দর।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর, ৭৪৭-৪০০ ও এয়ারবাসের মতো উড়োজাহাজ সহজেই ওঠানামা করতে পারবে। এভিয়েশন সশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ বিমানবন্দরকে ঘিরে তৈরি হবে একটি এভিয়েশন হাব।
স্টেডিয়ামে বসে দেখা যাবে সমুদ্রসৈকত। যাওয়া যাবে রেলপথেও।পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে সরকারের নানামুখী কাজ এসব।
প্রকল্প পরিচালক ইউনুস ভুইয়া বাংলাদেশ মনিটরকে বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছি। নির্মাণকাজে প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক যুক্ত। তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে। থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থাই এখানে আছে। আশা করছি শিগগিরই কাজ শেষ করতে পারব। এ পর্যন্ত মোট কাজের ৭.৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
সমুদ্রতীরবর্তী জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সরকার বিমানবন্দটির আরো উন্নয়ন ঘটানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যাতে আন্তর্জাতিক বিমান কোম্পানিগুলো তাদের বড় বড় বিমানকেও এই বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে পারবে।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে নতুন ১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে হবে যা দেশের প্রধানতম শাহজালাল বিমানবন্দরের চেয়েও ২০০ ফুট বেশি। যার ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৪ এর মতো বড় আকারের বিমানগুলো এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে এবং এর ফলে এখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করার পথ সুগম হবে।
আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল শুরু করতে চায় সরকার। ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের নির্মাণকাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ। বাকি কাজ আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে শেষ করে চেষ্টা চলছে ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু করার।
সিএএবি চীনের চ্যাংজিয়াং ইচ্যাং ওয়াটারওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো (সিওয়াইডব্লিউইবি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) এর সাথে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৫৬৮ দশমিক ৮৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মে মাসে সম্পন্ন হবে। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর সরকার প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।
প্রকল্পের পরিচালক ইউনুস ভুইয়া আরো জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটি নির্মিত হবে। একই সময়ে ৫০০ যাত্রী দেশের বাইরে যেতে পারবেন এবং ৫০০ যাত্রী বিদেশ থেকে দেশে আসতে পারবেন। বোয়িং ৭৭৭-এর মতো বড় বড় উড়োজাহাজ অবতরণের সকল ধরনের অবকাঠামোও থাকবে নতুন এই প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে। অন্তর্বর্তীকালীন আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপ নেবে কক্সবাজার বিমানবন্দর’।
উল্লেখ্য যে , গত ২৯ আগস্ট ভিডিও কনফোরেরেন্সর মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।