সেন্টমার্টিনে গাছ কেটে রিসোর্ট : পরিবেশের মামলা

জাফর আলম, কক্সবাজার Date: 21 February, 2026
সেন্টমার্টিনে গাছ কেটে রিসোর্ট : পরিবেশের মামলা

কক্সবাজার: পর্যটক শূন্য দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কেয়াগাছ কেটে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। 

পরিবেশগতভাবে স্পর্শকাতর এই দ্বীপে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণের অভিযোগে নেওয়া এই পদক্ষেপ নতুন করে দ্বীপের পরিবেশ ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

টেকনাফ থানায় মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, সৈকতের পাশে রিসোর্ট নির্মাণের জন্য কেয়াগাছ কাটার অভিযোগে দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হলেও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের কারণে দ্বীপটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে পর্যটক উপস্থিতি কমে যাওয়ার মধ্যেই এ ধরনের অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করে। ইসিএ আইনের আওতায় দ্বীপে এমন কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ, যা পানি, মাটি, বায়ু বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি, ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকার দ্বীপটিকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া ঘোষণা করে, যার ফলে ইট, সিমেন্টসহ স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ সামগ্রী নেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়।

তবুও বাস্তবে ইতিমধ্যে দ্বীপে ২৩৭টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। এর ফলে গত কয়েক দশকে দ্বীপের প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে মাত্র ৪০টিতে নেমে এসেছে এবং বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিনের মতো সংবেদনশীল দ্বীপে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত না করলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন গন্তব্য তার প্রাকৃতিক আকর্ষণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor