বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের যেন মেলা বসেছে। টানা তিন দিনের ছুটি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবসের ছুটি। সেই সাথে শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তারপর নেই করোনা, মৃদু শীতের জন্য আবহাওয়াও চমৎকার। পরীক্ষাও শেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে।এখনইতো সুযোগ বেড়াবার। এই সুযোগে সব শ্রেণী-পেশার পর্যটকরা বঙ্গোপসাগরের মুখোমুখি সমুদ্র সীমারেখায় অবস্থিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ভ্রমণে আসছেন।
অন্য ছুটির দিনের চেয়ে একটু যেনো আলাদা এবারের ছুটির আমেজ। টানা তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজার পরিণত হয়েছে উৎসবের নগরীতে। আনন্দে মাতোয়ারা পর্যটকরা পাল্টে দিয়েছে সৈকত দৃশ্যপট। তিল ধারণের ঠাঁই নেই সৈকতে। দলে দলে নামছেন তারা। প্রকৃতির বিশালতার কাছে যেন নিজেকে আত্মসমর্পণ করছেন।
একইভাবে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনও মুখর হয়েছে পর্যটকে। শহরের পার্শ্ববর্তী দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতেও বেড়েছে পর্যটকের পদচারণা। এছাড়াও কক্সবাজারের ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মহেশখালী, সোনাদিয়া, মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়াসহ আরো অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও ভিড় করছেন পর্যটকরা।
এদিকে পর্যটক সমাগমের কারণে শহরসহ সৈকতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ।
কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বাংলাদেশ মনিটরকে বলেন, কক্সবাজার বিশ্বের অন্যতম উন্নত পর্যটন শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে। উন্নত মানের সেবা না পেলে পর্যটকরা কক্সবাজার বিমুখ হতে পারেন। তিনি বলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
দেশের উত্তরবঙ্গের শেষ প্রান্ত নীলফামারী থেকে আশা পর্যটক ফয়সাল বলেন, ‘ছুটি পেয়েছি, তাই কক্সবাজারে চলে এসেছি। এখানকার অপরূপ প্রকৃতি খুব ভালো লাগে, কাছে টানে। ফলে ছুটির সময়টা এখানে পাহাড়, সাগর ও প্রকৃতি উপভোগ করব।’
এদিকে তিন দিনের টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামায় হোটেল-মোটেলগুলোতে ঠাঁই মিলছে না। অনেকেই হোটেলে কক্ষ ভাড়া না পেয়ে সমুদ্রসৈকত ও সড়কে পায়চারি করছেন। পর্যটকদের অভিযোগ, হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, যানবাহনসহ সবখানে বাড়তি ভাড়া ও অসদচারণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি চরম হয়রানিতে পড়ছেন তারা।
হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির নেতা আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে সাপ্তাহিক ছুটির সাথে অতিরিক্ত ছুটিতে কক্সবাজারে ব্যাপক পর্যটক এসেছেন এবং আসছেন। এই পর্যটক সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে হোটেল মোটেল মালিক সমিতি ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পাঁচ তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্টের কোম্পানি সেক্রেটারি আজহারুল মামুন বলেন, আমরা সবসময়ই হোটেলে আসা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করেছি। অতিথিদের যেন কোনো রকম ভোগান্তি না হয়, সেটি নিশ্চিত করে আমরা স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখছি।