সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে হাজারেরও বেশি পর্যটক

জাফর আলম, কক্সবাজার Date: 05 December, 2021
সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে হাজারেরও বেশি পর্যটক

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া এক হাজারেরও বেশি পর্যটক আটকা পড়েছে। 
ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদের’ প্রভাবে সাগর উত্তাল ও ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় জেলা প্রশাসন জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। 
স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর জানায়, শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আবহাওয়া গুমোট ছিল। বিকেল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে সাগর উত্তাল হয়ে পড়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ মনিটরকে জানান, ‘আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় এবং সমুদ্রবন্দরে ৩নং সতর্ক সংকেত থাকায় সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রোববার (৫ ডিসেম্বর) থেকে সোমবার (৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে কোনো জাহাজ ছাড়বে না। আবহাওয়া পরিস্থিতি যতদিন ভাল না হচ্ছে ততদিন এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে পাঁচটি জাহাজে ১ হাজার ৩০০ এর বেশির পযর্টক সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গেছেন। 
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ৩নং সতর্ক সংকেতটি কেটে যেতে দুয়েকদিন সময় লাগবে। এরপর আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর উত্তাল রয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহমদ যোগাযোগ করা হলে জানান, ‘প্রায় এক হাজার পর্যটক দ্বীপে রাত্রিযাপন করছেন। তারা ভালো আছেন। তাদের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।’
জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনের টেকনাফের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, ‘জাওয়াদের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবার চলাচল শুরু হবে।’
তিনি আরো বলেন,হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ যাতে পর্যটকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকাপয়সা আদায় না করে তার জন্য উপজিলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে এখানে মাইকিং চলছে।
 

Share this post



Also on Bangladesh Monitor