প্রতিবছরের মতো এবারও উদযাপিত হবে শরৎ উৎসব। কাল শুক্রবার ১৬তম শরৎ উৎসবের আয়োজন করেছে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে দিনব্যাপী চলবে এ উৎসব।দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হবে এটি। সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হয়ে ১০টা পর্যন্ত চলবে প্রথম পর্ব। মাঝখানে বিরতি। বিকেল ৪টায় শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় শিল্পী স্বপন সরকারের এসরাজ বাদনের মধ্য দিয়ে ‘শরৎ উৎসব-১৪২৮’ শুরু হবে। সকালে শরৎ–কথন পর্বে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনের সহ-সভাপতি,নিগার চৌধুরী।
হারিয়ে যাচ্ছে শরতের কাশবন
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতু পরিবর্তনের পালাবদলে আসে শরৎ। শরৎ আগমনের অন্যতম প্রতীক কাশফুল আর নীল আকাশের বুকে ভেসে বেড়ানো শুভ্র মেঘের ভেলা।
রিমঝিম বর্ষার পরেই ভাদ্র-আশ্বিনজুড়ে শরৎ কালের রাজত্ব। শরৎ মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুলের শুভ্রতা। প্রকৃতিতে যখন শরৎকাল আসে তখন কাশফুলই জানিয়ে দেয় এর আগমনী বার্তা। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে শরতের কাশফুল। এখন আগের মতো আর কাশ ফুলের দেখা মেলে না।
বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, শরৎকাল এলেই কাশগুচ্ছ জেগে ওঠে গ্রামের নদী, ঝোপ, ঝাড়, রাস্তার আনাচে-কানাচে। তখন সাদা ধবধবে কাশফুলের মন মাতানো হিল্লোল দোল দিয়ে যায় সবার মনে।
তিলোত্তমা রাজধানীর অনতিদূরেই সাভার যেতে নদী পাড়ে দেখা মেলে কাশফুলের। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে দেখতে এবং এর সংস্পর্শ পেতে প্রায় সময়ই পর্যটকরা আসছেন এ স্থানে।
বহু সংখ্যক মানুষ ছুটির দিনগুলি ছাড়াও প্রায় বিকেলেই সাদা ফুলের এই চাদর দেখতে ভিড় জমান এখানে। অনেকেই বলেন,‘মন খারাপ ছিল, তাই এখানে এলাম। কিছুক্ষণ সময় কাটালাম’।
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, এই সময়টাতে কাশফুলে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। দেখতে ভালোই লাগে। কাশফুল বাংলার চিরচেনা শরতের সুন্দর স্নিগ্ধ ফুল। গ্রামবাংলার অপরূপ শোভা কাশবন ছিল চেনা দৃশ্য। কিন্তু সেই কাশবন এখন আগের মতো চোখে পড়ে না।’
কাশ ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস। এ উদ্ভিদটি সাধারণত ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ বেশ ধারালো। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। তবে নদীর তীরেই কাশফুল বেশি জন্মাতে দেখা যায়।
সাভারের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর আলম জিতু বলেন,‘আগে গ্রামীণ দৃশ্যপটে কাশবন দেখা যেত। এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। কাশ দিয়ে গ্রামের বধূরা ঝাঁটা, ঝুড়িসহ নানান প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করে। কৃষকের ঘরের ছাউনি হিসেবেও এর ব্যবহারের জুড়ি নেই।
জিতু বলেন,শরতে মাঠে মাঠে এখন নতুন ধানের সমারোহ। কৃষকের মনে নবীন আশা, সাজ সাজ রব। দোয়েল-কোয়েলের কুজনে মুখরিত পল্লী গ্রাম-মাঠ-ঘাট, জনপদ। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে প্রহর গোনা শুরু এই শরতে, কৈলাশ ছেড়ে দুর্গতিনাশিনী দুর্গা আসবেন তাদের গৃহে। নদীর পাড়ে কাশফুলের জেগে ওঠার আভাস দেখেই বাতাসে রটে গেছে শরৎ এসেছে, পূজা আসছে।