উৎসবে গাড়ি, স্মার্টফোন ও টিভিসহ অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় অর্থনীতি উজ্জীবিত হয়েছে।
অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো অনলাইন প্লাটফর্মগুলোয় বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের প্রথম সপ্তাহে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। ইউনিফাড পেমেন্টস ইন্টারফেসের (ইউপিআই) মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন গত বছরের তুলনায় অক্টোবরে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
ভারতে উৎসবের মৌসুম দুর্গা পূজা থেকে দীপাবলি পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়। লক্ষাধিক ভারতীয় প্রায়ই এ সময়ে খাবার, উপহার এবং বাসাবাড়ি সংস্কারে প্রচুর ব্যয় করে। এ বিক্রি অর্থনীতিতে ভোক্তাদের শক্তিশালী ভোগের নির্দেশক, যা ভারতের জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ।
ভোক্তাদের ভোগের বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা মূল্যস্ফীতির হ্রাস ও মজুরি বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে বেশির ভাগ ভারতীয় বাস করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ভোক্তাদের আস্থা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর সুদহার বাড়লেও ব্যাংক ঋণের চাহিদা ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে।
নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কৃষকদের কিছু ফসলে উচ্চ দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং রান্নার গ্যাসের ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
কোয়ান্টেকো রিসার্চের অর্থনীতিবিদরা এক প্রতিবেদনে জানান, শহুরে ও গ্রামীণ উৎসবে ভোগের পরিমাণ বেড়ে যায়। ভোটের আগে গ্রামাঞ্চলে আর্থিক সহায়তা সেখানে খরচের প্রবণতা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শক্তিশালী ব্যয় এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে উৎপাদন কার্যক্রমকে আরো গতি দেবে। মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে রয়েছে। আইএমএফ ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস করেছে।
ব্যবসাগুলো শক্তিশালী বিক্রির রিপোর্ট করেছে। অ্যাকসিস ব্যাংকের মতো ব্যাংকগুলো আগামী মাসগুলোয় ব্যবসায়িক গতিতে ফিরে পাওয়ার আশা রেখেছে। রিলায়েন্স রিটেইল জানিয়েছে, তারা সাম্প্রতিক উৎসবগুলোয় অনেক বেশি বিক্রি দেখেছে।
উৎসব মৌসুমের পাশাপাশি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ও আসন্ন বিয়ের মৌসুম থেকেও ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের শহরগুলোয় বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অর্থনীতিতে ২৬০ কোটি ডলার যোগ করতে পারে। ২৩ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণ, পোশাক এবং ভোগ্যপণ্যে ৫ হাজার কোটি বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে আশা করছে ভারতের বৃহত্তম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো।
নির্মল ব্যাংক ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজ প্রাইভেট লিমিটেডের অর্থনীতিবিদ তেরেসা জন জানান, ঋণের সহজ প্রাপ্যতা ও মূল্যস্ফীতি কমলে ইলেকট্রনিকস, পোশাক ইত্যাদির মতো জিনিসগুলোয় আরো ভোক্তা ব্যয়কে উৎসাহিত করবে। মধ্য ও নিম্নবিত্তের মধ্যে এটা বিশেষভাবে লক্ষণীয় হবে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রেডসির এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট ও অন্যদের অনলাইন বিক্রি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ হাজার ৭০০ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। যার মধ্যে ফোন, ইলেকট্রনিকস পণ্যসামগ্রী বিক্রির ৬৭ শতাংশ দখল করেছে।
ইউপিআই গত ১-৩০ অক্টোবরের মধ্যে ১৬ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন রুপির লেনদেন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি। সেপ্টেম্বরে ক্রেডিট কার্ডের পেমেন্ট ১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪২ ট্রিলিয়ন রুপিতে।
অন্যান্য শক্তিশালী নির্দেশকের মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে পণ্য ও পরিষেবা কর সংগ্রহ ১০ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন রুপি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৪০ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা সরকারি পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।
ভারতের অন্যতম বৃহৎ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিক্সন টেকনোলজিস লিমিটেডের মুখ্য অর্থনৈতিক কর্মকর্তা সৌরভ গুপ্তা বলেন, ‘মোবাইল ফোন, এলইডি টেলিভিশন ও ওয়াশিং মেশিনের অর্ডার বেড়েছে। পাইপলাইনে থাকা অর্ডারগুলো পূরণের জন্য ২০টি কারখানায় একাধিক শিফট চালু করেছে ডিক্সন।’
-B