ঢাকাঃ শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে দুর্নীতি হয়ে থাকলে সেটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ। এ ছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ে বিমানের সক্ষমতার বিষয়টিও আমরা দেখবো।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল ল্যা মেরিডিয়ানে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) আয়োজিত 'তৃতীয় টার্মিনাল : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তানজীম আনোয়ার।
উপদেষ্টা বলেন, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হবে। সেই সঙ্গে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে ৩৬৫ দিন সময় লাগবে। তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে যে বিনিয়োগ হয়েছে তা থেকে কেমন সেবা পাওয়া যাবে এবং দেশ ও জাতি লাভবান হবে- সেটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাসান আরিফ বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের পর প্রশ্ন আসছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, এই টার্মিনাল নির্মাণের পর আমাদের রিটার্ন কি?
উপদেষ্টা বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এটি কেন হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।
এর আগে নভোএয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান বলেন, নকশায় ভুল ও কয়েক বছরের ব্যবধানে ৭ হাজার কোটি টাকার তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার কেটি টাকা। বাহ্যিকভাবে এ টার্মিনাল সুন্দর মনে হলেও সর্বস্তরে নিম্নমানের সামগ্রী, অখ্যাত ব্র্যান্ডের অনেক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তৃতীয় টার্মিনালে কোয়ালিটি সার্ভিস দেবে জানিয়ে বিমানের পরিচালক বলেন, তৃতীয় টার্মিনালে একসঙ্গে ২০টি ফ্লাইট পরিচালনায় বিমানের ১ হাজার জনবলের ঘাটতি রয়েছে। স্বল্পতা রয়েছে যন্ত্রপাতির। তবে সবকিছুই সমাধান প্রক্রিয়াধীন।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, কোনো দেশেই শহরের মাঝখানে এয়ারপোর্ট হতে পারে না। তৃতীয় টার্মিনাল কতটুকু অপারেশনাল সুবিধা কতটুকু বাড়বে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শহরের মধ্যে এয়ারপোর্ট রেখে এভিয়েশন হাব হিসেবে স্বপ্ন দেখা যাবে না।
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ বলেন, বাংলাদেশের যাত্রী পরিবহন করে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো সন্তুষ্ট না। তারা জানিয়েছে— বিশ্বে অন্যান্য যে কোনো দেশের তুলনায় শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং চার্জ বেশি। শাহাজালাল বিমানবন্দরকে এভিয়েশন হাব করতে হবে।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের জিএসএ রিদম গ্রুপের হেড অব বিজনেস মাসুদুজ্জামান বলেন, বিমান বাংলাদেশের জাতীয় এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই বিমান গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং করুক। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো তাদের কাজের প্রক্রিয়া দীর্ঘ। বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনার আগে বিমান থেকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবার অনুমতি নিতে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের চার মাসের বেশি সময় ঘুরতে হয়েছে।
এয়ারলাইন্স অপারেটরস কমিটি ঢাকার (এওসি) চেয়ারপারসন দিলারা হোসেন বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগে যেসব অভিযোগ শুনেছি, এখনো একই ধরনের অভিযোগ আসছে। এই বিমানবন্দরে ক্রমেই বিদেশি এয়ারলাইন্স বাড়ছে। কিন্তু গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের সেবার মান বাড়ছে না।
-B