মার্কিন জাতীয় উদ্যানে বাড়তি ফি : পর্যটনে শঙ্কা

-মনিটর অনলাইন Date: 12 January, 2026
মার্কিন জাতীয় উদ্যানে বাড়তি ফি : পর্যটনে শঙ্কা

ঢাকাঃ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যানগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বহু বছর ধরেই বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ইয়েলোস্টোনের গিজার, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ও ইয়োসেমাইটের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের টানে।

কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে নতুন প্রবেশবিধি ও অতিরিক্ত ফি বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণকে ব্যয়বহুল ও জটিল করে তুলেছে। দেশের ইন্টেরিয়র ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ১১টি প্রধান জাতীয় উদ্যানে বিদেশি পর্যটককে বার্ষিক পাসের জন্য ২৫০ ডলার দিতে হবে, যা পূর্বের ৮০ ডলারের তুলনায় তিন গুণ বেশি। মার্কিন নাগরিকরা আগের মূল্যে পাস পাবেন।

ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় উদ্যানে প্রবেশের সময় পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই কড়াকড়ি করা হয়েছে। এর ফলে প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে, অনেক পর্যটক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়ম শুনেই অনেক বিদেশি পর্যটক তাদের ভ্রমণ বাতিল করছেন বা অন্য গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু উদ্যানে নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও প্রভাবিত হতে পারে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, গাড়ি ভাড়া প্রতিষ্ঠান ও ট্যুর অপারেটরদের আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় নতুন নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং উদ্যানের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের জন্য অতিরিক্ত রাজস্ব প্রয়োজন। সংগৃহীত অর্থ উদ্যানের সংস্কার, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দর্শনার্থীর অভিজ্ঞতা উন্নত করবে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি রাখছেন। বিদেশি পর্যটকের জন্য অতিরিক্ত জটিলতা যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে পিছিয়ে ফেলতে পারে। ইউরোপ, কানাডা ও এশিয়ার দেশগুলো তুলনামূলক সহজ ভিসা ও কম খরচে প্রাকৃতিক পর্যটন সুবিধা দিচ্ছে।

সবমিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যানে নতুন ফি ও কড়াকড়ি সরকারের রাজস্ব ও নিরাপত্তা লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হলেও, বিদেশি পর্যটনের গতিকে শ্লথ করতে পারে। আগামী মাসগুলোতে এ নীতির বাস্তব প্রভাব পর্যটন খাত ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor