এক রাডারেই আকাশ ও সমুদ্র নজরদারি

মনিটর রিপোর্ট Date: 13 June, 2024
এক রাডারেই আকাশ ও সমুদ্র নজরদারি

ঢাকাঃ দ্রুত এগিয়ে চলেছে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমাসহ দেশের আকাশ নজরদারি করতে বহুল প্রতীক্ষিত রাডার স্থাপন প্রকল্পের কাজ । কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হলেও এখন সেই রাডার দিয়েই দেশের আকাশ পরীক্ষামূলকভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। তবে নভেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দেশের সমুদ্র ও আকাশ নজরদারির আওতায় আসবে। 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের আকাশে নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় রাডার স্থাপন প্রকল্পের কাজ এখন শেষের পথে। এটিসি টাওয়ার ও অপারেশন বিল্ডিংয়ের চলমান কাজও প্রায় শেষের পথে। অবশ্য কাজ শেষ না হলেও এখন নতুন রাডার দিয়েই চলছে গোটা দেশের আকাশের নজরদারি। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ সমুদ্রও চলে এসেছে এই রাডারের আওতায়।

এখন শুধু বাকি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের। তবে এই রাডার ও নেভিগেশনের পুরো সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু সময়। রাডারের কাজের সঙ্গে অটোমেশনের আরও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো শেষ করতে এ বছরের বাকি সময়টা লেগে যাবে। 

প্রকল্পের প্রতিনিধি অ্যারোনাস জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। বহুল আলোচিত এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৭৩০ কোটি টাকার পুরোটাই নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে বেবিচক। অত্যাধুনিক এই রাডার ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এখন উড়োজাহাজ চলাচল আরও নিরাপদ হয়েছে।

একইসঙ্গে নজরদারির আওতায় এসেছে দেশের পুরো আকাশ। এতে দেশে অবতরণ না করে যেসব উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশ ব্যবহার করে সেগুলো থেকেও ফি আদায় করা যাচ্ছে। ফলে দেশ আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

বেবিচক সূত্রমতে, বর্তমানে ব্যবহৃত ৪৪ বছরের পুরনো রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থার কারণে বঙ্গোপসাগরের বড় একটি অংশের পাশাপাশি দেশের পুরো আকাশ নজরদারির আওতায় নেই। এতে ওভার ফ্লাইং ফি পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ একবার আকাশ ব্যবহারের জন্য ‘ফ্লাইং ওভার ফি’ প্রায় ৫০০ ডলার।

এ প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে আমরা রাডার প্রকল্পে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছি। বেবিচকের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়নে প্রকল্পটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হয়েছে। রাডার ব্যবস্থাপনার জন্য যে স্থাপনা, সেটির কাজ হয়ে গেছে।

নতুন রাডার থেকে বর্তমানে কী সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পুরো আকাশে নজরদারির সুবিধা আমরা এখনও পাচ্ছি না। এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামের আকাশসীমায় যেসব উড়োজাহাজ চলাচল করছে, ওইগুলোকে আমরা সার্ভিল্যান্সে রাখতে পারছি।

ফ্রান্স থেকে রাডারের টাওয়ার স্থাপনের স্টিল স্ট্রাকচার এনে দাঁড় করানো হয়েছে। এটিসি টাওয়ার এবং অপারেশন বিল্ডিংয়ের কাজও শেষ। তবে এখনো বেবিচকের কাছে রাডার টাওয়ার হস্তান্তর করা হয়নি। সম্পূর্ণ কাজ শেষে বুঝে নিতে আরও কিছু সময় লাগবে। 

এ বিষয়ে বেবিচক সদস্য (এটিএম) এয়ার কমোডর জিয়াউল হক বলেন, আমরা নতুন রাডার দিয়েই এখন কাজ করছি।

জানা গেছে, আগামী মাসেই দেশের পুরো আকাশ নজরদারি করতে পারবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক রাডার বসাতে ৫ মাস সময় বাকি থাকলেও এরইমধ্যে রাডারটির আংশিক ব্যবহার করে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor