সরবরাহ সংকটের পরও ক্রয়াদেশ পাচ্ছে এয়ারবাস ও বোয়িং

মনিটর অনলাইন  Date: 24 February, 2024
সরবরাহ সংকটের পরও ক্রয়াদেশ পাচ্ছে এয়ারবাস ও বোয়িং

সিঙ্গাপুর  : বৈশ্বিক উড়োজাহাজ নির্মাণ ও সরবরাহ সংকটের মধ্যে থাকলেও চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে এশিয়ান এয়ারলাইনসগুলোর কাছ থেকে নতুন করে ক্রয়াদেশ পেয়েছে এয়ারবাস ও বোয়িং। 

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন এয়ারলাইনস কোম্পানি যখন নিজেদের উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন এয়ারবাস ও বোয়িং উভয় কোম্পানির সরবরাহ চেইনে বড় ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। এ সংকট আগামী কয়েক বছর চলবে বলে আশঙ্কা করছেন এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্টরা। 

এদিকে আলাস্কা এয়ারলাইনসের ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজের কেবিন প্যানেল খুলে যাওয়া এবং নিপ্পন এয়ারলাইনসের চলন্ত বোয়িং ৭৩৭-৮০০-এর জানালায় ফাটল ধরার ঘটনা কেন্দ্র করে সম্প্রতি বোয়িং নিরাপত্তা ইস্যু আলোচনার মধ্যে রয়েছে। 

তাইওয়ানের স্টারলাক্স এয়ারলাইনস পাঁচটি এ৩৫০ কার্গো এয়ারক্রাফট এবং তিনটি এ৩৩০নিও যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এয়ারবাস থেকে অর্ডার করেছে। এয়ারবাস আশা করছে, ২০২৫-২০২৬ সালের মধ্যে সেগুলো ডেলিভারি করা হবে।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টারলাক্স এয়ারলাইনস একটি তাইওয়ানভিত্তিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস, যা চায়না এয়ারলাইনস ও ইভা এয়ারওয়েজের মতো দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে। স্টারলাক্স চেয়ারম্যান চ্যাং কুও-ওয়েই জানান, এশিয়ার বাজার থেকে উত্তর আমেরিকায় কার্গো পরিবহনের কাজ করতে চায় স্টারলাক্স।

এয়ারলাইনসটি আরো পাঁচটি কার্গো কেনার কথা ভাবছে। এশিয়ার বাইরে তাদের রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এ অংশ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের জন্য একটি ট্রানজিট এয়ারলাইন হয়ে উঠতে চায়।

এদিকে এয়ারবাসের প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়িং জানিয়েছে, থাই এয়ারওয়েজ তাদের কাছ থেকে ৪৫টি ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের অর্ডার করেছে, যেগুলোর ডেলিভারি শুরু হবে ২০২৭ সালে। থাই এয়ারওয়েজ উচ্চ ভ্রমণ চাহিদা মেটানোর জন্য নতুন রুট খোলার চেষ্টা করছে। এছাড়া বোয়িং আরো জানিয়েছে, রয়েল ব্রুনাই এয়ারলাইনস ২০২৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে চারটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারের অর্ডার দিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ও পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়ালেও চীনের ধীরগতির পুনরুদ্ধারের কারণে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভ্রমণ এবং পর্যটন খাত এখনো পিছিয়ে। তবে আগামী ২০ বছরে এ অঞ্চলের বাজার বার্ষিক ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস করেছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উড়োজাহাজের চাহিদা শক্তিশালী থাকবে বলে আশা করছেন উড়োজাহাজ নির্মাতারা। বোয়িং পূর্বাভাস করেছে, ২০৪২ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে মোট ৪ হাজার ২২৫টি নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে, যা মোট বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor