প্যারিস: ক্রয়াদেশের দিক থেকে রেকর্ড ছাড়িয়েছে ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়াদেশ বেড়েছে ১১ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চম বছরের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মহামারীর সময়ে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে উড়োজাহাজসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন ছিল। ফলে উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ কমেছিল বলে মনে করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। তবে ২০২৩ সালের ক্রয়াদেশ বাড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর এয়ারবাস সব মিলিয়ে ২ হাজার ৩১৯টি ক্রয়াদেশ পেয়েছে। বাতিল করার পর মোট ক্রয়াদেশ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৪টিতে।
প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ৭৩৫টি উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে। আর ব্যাকলগে থাকা ক্রয়াদেশ ৮ হাজার ৫৯৮টি।
এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিউম ফাউরি বলেছেন, ‘এয়ারবাসের বছর শুরু হয়েছিল ধীরগতিতে। সরবরাহ চেইনে প্রতিবন্ধকতা থাকার কারণে প্রথম দিকটা কঠিন ছিল। তবে ক্রমে সক্ষমতা ও সরবরাহ বেড়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এয়ারবাস মাসিক ৭৫টি এ৩২০ নিউ মডেলের ফ্যামিলি জেট সমন্বয়ের সক্ষমতা অর্জন করবে।’
এদিকে ক্রয়াদেশ মহামারী পর্যায় অতিক্রম করে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ এখনো ২০১৯ সালের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ভ্রমণ বেড়ে যাওয়ার দরুন মহামারী-পূর্ব বছরটিতে সরবরাহ ছিল বেশি। ২০১৯ সালে এয়ারবাসের সরবরাহ ছিল ৮৭০টি উড়োজাহাজ। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশ করা হবে।
গিউম ফাউরি বলেন, ‘সরবরাহ চেইনের পরিস্থিতি কিছুটা প্রতিবন্ধকতার মুখে রয়েছে। যদিও প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠছি আমরা। ২০২৪ সালের মধ্যেই ক্ষত পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে চাই।’
এয়ারবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্রিস্টান স্কিরার জানুয়ারিতে জানিয়েছিলেন, উড়োজাহাজ সেবা খাত মহামারী-পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুতগতিতে পুনরুদ্ধার ঘটেছে। এখন ঠিক গুণগত মান বজায় রেখে ব্যাকলগে থাকা উড়োজাহাজগুলোকে সময়মতো সরবরাহ করাই এয়ারবাসের প্রধান লক্ষ্য। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ পাল্লার উড়োজাহাজ এ৩২১ এক্সএলআর সরবরাহ করবে।
এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৭২০টি জেট সরবরাহ করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছিল এয়ারবাস। তারও আগে ২০২২ সালে ৬৬১টি জেট সরবরাহ করতে পেরেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।
এদিকে বোয়িং পুনরুদ্ধার করছে তাদের ৭৮৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের মাধ্যমে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ ছিল ৫২৮টি। বাতিল হওয়ার পর বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়াদেশ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৪টিতে।
-B