ঢাকা : বিশ্ববাজারে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) সর্বশেষ ফুয়েল প্রাইস মনিটরে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে।
আইএটিএর তথ্যানুযায়ী, প্রতি ব্যারেল জেট ফুয়েলের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির লাইসেন্সের অধীনে প্রকাশিত এ পরিসংখ্যান মূলত উড়োজাহাজ জ্বালানির গড় শোধনাগার (রিফাইনারি) মূল্য প্রতিফলিত করে।
বার্ষিক ভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, জেট ফুয়েলের দাম গত বছরের তুলনায় ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের সাপ্তাহিক রিপোর্টেও এ দাম প্রায় ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ লাফিয়ে বাড়তে দেখা যায়।
উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে জ্বালানি খরচ হলো সবচেয়ে বড় পরিচালনা ব্যয়গুলোর একটি। ফলে এ মূল্যবৃদ্ধি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর লভ্যাংশের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইএটিএ উল্লেখ করেছে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমূল্য থাকার চেয়ে হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়া বেশি ক্ষতিকর। কারণ এতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো টিকিটের দাম, সক্ষমতা ও ক্রয়ের কৌশল সমন্বয় করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না।
জেট ফুয়েলের এ মূল্যবৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো এমনিতেই নানা সংকটে রয়েছে। সংঘাতের কারণে অনেক ফ্লাইট নতুন পথে পরিচালনা করতে হচ্ছে, অনেক সেবা স্থগিত করা হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে পরিচালনা ব্যয় বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি খরচ হয় জ্বালানির পেছনে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় জেট ফুয়েলের দাম তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর ওপর বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব এশিয়া প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের প্রধান সুভাস মেনন জানান, ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে উড়োজাহাজকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। ফলে ক্রুদের ওপর কাজের চাপ বাড়ছে এবং জ্বালানি খরচও অনেক বেড়ে গেছে।
-B