যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা এয়ার গ্রুপ জানিয়েছে, ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজের অস্থায়ী গ্রাউন্ডিংয়ের কারণে এয়ারলাইনটি আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রায় ১৬০ মিলিয়ন বা ১৬ কোটি ডলার প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
এক ফাইলিংয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ক্ষতিপূরণ তাদের তিন মাসের লাভের সমান। এছাড়া আরও ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ভাবছে সংস্থাটি। এ তথ্য প্রকাশের পর আলাস্কার এয়ারের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ।
এয়ারলাইনটি শেয়ার প্রতি প্রথম প্রান্তিকের সমন্বিত লোকসান থেকে ক্ষতিপূরণ বাদ দেবে, যা ১ দশমিক ০৫ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত মাসে সিএফও ব্রায়ান ওয়েস্ট ক্ষতি পূরণ দেয়া প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ৫ জানুয়ারির ঘটনা থেকে উদ্ভূত গ্রাহক ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিচিত গ্রাহকদের বোয়িং পেমেন্ট বোয়িংয়ের প্রথম প্রান্তিকের আয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আলাস্কা এয়ারলাইন্স পরিচালিত একটি ম্যাক্স ৯ বিমানের দরজা মাঝ আকাশে খুলে পড়ে যায়। ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে মাঝ আকাশে সেটির কেবিনের মাঝামাঝির একটি দরজা উড়ে যায়। মাঝ আকাশে দুর্ঘটনায় সময়ে উড়োজাহাজটি ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। পরে এটি পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দরে ফিরে গিয়ে জরুরি অবতরণ করে। তবে ওই যাত্রায় ১৭১ জন যাত্রী ও ছয় বিমান ক্রুর কেউ আহত হননি। এ কারণে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ১৭১টি বিমান গ্রাউন্ডেড করে। বন্ধ করে দেয়া হয় আলাস্কা এয়ারলাইন্স।
দুর্ঘটনার পরপর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) জানায়, তারা আলাস্কা এয়ারলাইন্সের এ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এবার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করার কথা জানায় বোয়িং। তাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যালহুন। পরে উড়োজাহাজটির পরিচালনাকারী সংস্থা আলাস্কা এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঘটনার পর তাদের কাছে থাকা সব বোয়িং ম্যাক্স ৯ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যমতে এগুলোর কিছু হার্ডওয়ার আলগা ছিল।
বোয়িং ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমসের অসাবধানতার কারণে সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডিংয়ের শিকার হয় ফলে অ্যালাস্কা ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের সুনাম ও ভাবমূর্তি সংকট তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফেডালের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (এফএএ) জানায়, বোয়িং মাসিক হারে ম্যাক্স জেট উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে, তবে এই উৎপাদনের হার নতুন করে আর বাড়ানো যাবে না। তবে এই সীমাবদ্ধতা কতদিন স্থায়ী হবে এবং বোয়িং প্রতি মাসে কতগুলো উড়োজাহাজ তৈরি করতে পারবে তা নির্ধারণ করে দেয়নি এফএএ। দুর্ঘটনার আগে চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের সঙ্গে জেট বাজারে ব্যবধান বন্ধ করতে বোয়িং তার সর্বাধিক বিক্রিত ৭৩৭ ম্যাক্সের উৎপাদন বাড়াতে চাইছিল। কিন্তু ঠিক তখনই এফএফএ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসে।
এর আগে ২০১৯ সাল থেকে একের পর এক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কয়েক দফায় বন্ধ ছিল বোয়িংয়ের উড়াল। নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বোয়িং। যার ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিমার্কেট বাণিজ্যে বোয়িংয়ের শেয়ার ২ শতাংশ কমে। অ্যারোসিস্টেমের শেয়ার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং হাউমেট অ্যারোস্পেসের শেয়ার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ জেটের পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় ৩৪৬ জন যাত্রী নিহত হয়।
গত মাসে আলাস্কা জানিয়েছে, বোয়িং সংকটের কারণে তাদের ২০২৪ সালের সক্ষমতা পরিকল্পনা বিলম্বিত হচ্ছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বেন মিনিকুচি বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্মাতার কাছ থেকে ৪৭টি জেট ডেলিভারির সবগুলো পাওয়ার আশা করছে না ক্যারিয়ারটি।
-B