ঢাকাঃ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণলায়ের বরাদ্দ কমেছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জাতীয় সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় এই মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন।
চলতি অর্থবছরে (২০২৩-২৪) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণলায়ের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। যা এবার ৮৯৭ কোটি টাকা কম। যদিও চলতি অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ে সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। সে হিসাবেও এবার প্রস্তাবিত বাজেটে সংশোধিত বাজেট থেকে ৬৫৫ কোটি টাকা কম।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত পনেরো বছরে আমাদের অর্থনীতির আকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বহির্বিশ্বের সাথে বিমানযোগে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের পরিমাণও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অভ্যন্তরীণ চলাচলের ক্ষেত্রেও বিমানের ব্যবহার বেড়েছে। তাই বিমান পরিবহণ এবং আনুষঙ্গিক সেবাকে আধুনিক ও বিশ্বমানে উন্নীত করার জন্য আমরা বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। উড়োজাহাজের নিরাপদ উড্ডয়ন-অবতরণ সুবিধা বৃদ্ধির নিমিত্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ে উন্নত ও দীর্ঘ করা হয়েছে।
বিগত ৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনালের উদ্বোধন করেছেন, যা দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণের নিমিত্ত সমুদ্রের দিকে এ বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৭৯.৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
এছাড়া সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে।
পর্যটন খাতের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্যে আমরা ২৫ বছর মেয়াদি পর্যটন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। মহাপরিকল্পনাটি বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০৪১ সাল নাগাদ জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান হবে ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলার।’
আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, চট্টগ্রামের পারকি, নোয়াখালীর হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দায় পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং দেশি-বিদেশি জনগণের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ভিত্তিতে দেশে ইকো-টুরিজম, হেরিটেজ টুরিজম এবং বিজনেস ও মাইস (এমআইসিই) টুরিজম বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এ সকল টুরিজম উন্নয়নের জন্য আমরা টাঙ্গুয়ার হাওর, নিঝুম দ্বীপ, সুন্দরবনের শরণখোলায় ও পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহারে পর্যটক সুবিধা এবং পদ্মা ব্রিজের মাওয়া প্রান্তে টুরিজম কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’
এছাড়া টেকসই টুরিজম শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে টুরিজমের সঙ্গে জড়িত ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের নিবন্ধনের পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে চট্টগ্রামের পারকি, নোয়াখালীর হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দায় পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া রংপুর, চাঁদপুর ও কক্সবাজারে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। যা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। বিশেষ বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন হয়।
-B