ঢাকাঃ ঘনবসতিপূর্ণ হংকং ও সিঙ্গাপুরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
দুটি দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এশিয়াজুড়ে নতুন করে তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
হংকং সিটির সংক্রামক রোগ শাখার প্রধান অ্যালবার্ট আউ চলতি সপ্তাহে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, হংকংয়ে করোনার ভাইরাসে আক্রান্তের হার ‘অনেক বেশি’।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার হার গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (১৬ মে) হংকংয়ের সংক্রামক রোগ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ মে পর্যন্ত আগের এক সপ্তাহে অন্তত ৩১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন; এটি এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
যদিও আক্রান্তের হার গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেনি, তারপরও কোভিড সম্পর্কিত রোগী ও হাসপাতালের ভর্তির ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির হার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভাইরাসটি সক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ সিঙ্গাপুরেও কোভিড আক্রান্তের হার বাড়ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসে গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ৩ মে প্রকাশিত এক তথ্যে জানানো হয়, এক সপ্তাহে প্রায় ১৪ হাজার ২০০ রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি।
সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসসহ বিভিন্ন কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে পরিস্থিতি গুরুতর পর্যায় যেতে পারে এমন কোনো তথ্য নেই।
এশিয়ার বৃহত্তম দুটি শহরে করোনার এই বৃদ্ধি এই অঞ্চলজুড়ে সংক্রমণটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা, লোকজনকে টিকা নেয়ার পাশাপাশি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বুস্টার শট নেয়ার কথা বলছেন।
চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুসারে, চীনে বর্তমানে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ৪ মে পর্যন্ত আগের পাঁচ সপ্তাহে দেশটির মূল ভূখণ্ডের হাসপাতালগুলোতে কোভিড আক্রান্তের হার দ্বিগুণেরও বেশি।
-B