৪১ হাজার ফুট উঁচুতে উড়োজাহাজ থেকে লাফ দেবেন আশিক চৌধুরী

মনিটর অনলাইন  Date: 25 February, 2024
৪১ হাজার ফুট উঁচুতে উড়োজাহাজ থেকে লাফ দেবেন আশিক চৌধুরী

আশিক চৌধুরীর পরিকল্পনা শুনে মার্কিন স্কাইডাইভার লুক আইকিনসের কথা মনে পড়ে গেল। বছর আটেক আগের ঘটনা। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্যারাস্যুট ছাড়াই প্রায় ২৫ হাজার ফুট উঁচুতে থাকা উড়োজাহাজ থেকে লাফ দেন আইকিনস। মাটির কাছাকাছি তাঁর জন্য বিছানো ছিল জাল। সেই দুঃসাহসিক লাফের দুই মিনিট পর উড়তে উড়তে এসে পড়েন জালের ওপর। অবিশ্বাস্য কাজটি করে হইচই ফেলে দেন আইকিনস।

আশিক চৌধুরীও আসছে মে মাসে আইকিনসের মতো ৪১ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ে যাওয়া উড়োজাহাজ থেকে লাফ দেবেন। তবে আশিকের পিঠে থাকবে প্যারাস্যুট আর হাতে থাকবে আমাদের গর্বের লাল-সবুজ পতাকা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়তে তাঁর এই প্রচেষ্টার নাম ‘দ্য লারজেস্ট ফ্ল্যাগ ফ্লোন স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার’। ভূপৃষ্ঠ ছাড়িয়ে ১০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী জায়গাকে বলা হয় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।

রেকর্ড গড়তে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এয়ারফিল্ডে গিয়ে প্রচেষ্টা চালাবেন আশিক। সেই প্রস্তুতিও প্রায় পাকা। তাঁকে জিজ্ঞেস করি, যুক্তরাষ্ট্রে কেন? আশিক বলেন, ‘সাধারণত বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ৩৫ হাজার ফুটের নিচ দিয়ে চলাচল করে। এর ওপরে উঠতে বিশেষায়িত উড়োজাহাজ দরকার হয়। সঙ্গে লাগে অনুকূল আবহাওয়া, যা এই এয়ারফিল্ডের আকাশে পাওয়া যায়।’

চাঁদপুরে বাড়ি হলেও বাবার চাকরির সুবাদে আশিকের বেড়ে ওঠা যশোরে। স্কুল-কলেজের পাট চুকিয়েছেন সিলেট ক্যাডেট কলেজে। এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ)। ২০০৭ সালে স্নাতক হয়েই যোগ দেন দেশের বেসরকারি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। ছুটিছাটায় ছুটে যেতেন রোমাঞ্চের টানে। ২০১১ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানেই চাকরি করেছেন। তারপর পড়তে যান বিলেতে। সেখানেই যেন তাঁর স্বপ্নেরা ডানা মেলে।

৪১ হাজার ফুট উঁচুতে উড়োজাহাজ থেকে লাফ দেবেন আশিক চৌধুরী

২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। আশিক চৌধুরীর স্বপ্নপূরণের দিন। যুক্তরাজ্যের ব্র্যাকলি শহরের হিনটন স্কাইডাইভিং সেন্টারে হাজির তিনি। জাম্পস্যুট, হেলমেট, প্যারাস্যুট, গগলসসহ যাবতীয় সুরক্ষাসামগ্রী পরে উঠে পড়লেন প্লেনে। সঙ্গে দুজন প্রশিক্ষিত স্কাইডাইভার। কয়েক হাজার ফুট ওপরে ওঠার পর একজন স্কাইডাইভার আশিককে সঙ্গে নিয়ে বিমান থেকে লাফ দেন। আকাশে উড়তে উড়তে আশিকের মনে হলো— পাখির জীবনটা কতই না সুন্দর!

মাটিতে পা রেখেই আশিকের মনে আক্ষেপ, স্কাইডাইভারের সাহায্য ছাড়া লাফ দিলে কতই না রোমাঞ্চকর হতো ব্যাপারটা। সেই রোমাঞ্চ দমিয়ে রাখতে হয় আশিককে। কারণ, তত দিনে লন্ডন বিজনেস স্কুল থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে আমেরিকান এয়ারলাইনসের লন্ডন অফিসে যোগ দিয়েছেন। বিমানবন্দরের পাশেই আশিকের অফিস। অনবরত বিমানের ওঠানামা দেখেন। অনেক সময় তাঁর বাবা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর হারুন চৌধুরীর কথা মনে পড়ে। পাইলট বাবার কাছে আকাশে ওড়ার কত গল্পই না শুনেছেন। গল্প আর বাস্তবতার ফারাকটা ঘুচিয়ে ফেলতে ইচ্ছা করে আশিকের।

২০১৪ সালে ভর্তি হন একটি প্রাইভেট পাইলট প্রশিক্ষণ স্কুলে। এক বছর ধরে চলে প্রশিক্ষণ। এরপর একদিন ককপিটে বসেন আশিক। লন্ডন থেকে উড়োজাহাজ নিয়ে ছুটে যান পাশের এক শহরে। আশিক বলেন, ‘এরপর মাঝেমধ্যেই প্লেন ভাড়া করে পরিবার নিয়ে লন্ডন থেকে ম্যানচেস্টারে চলে যেতাম। লাঞ্চ করে আবার ফিরতাম লন্ডনে। সেই দেশে এটা খুবই সাধারণ ঘটনা।’

পাইলট হলেও স্কাইডাইভিংয়ের পোকাটা আশিকের মাথায় থেকেই যায়। কিন্তু পেশাগত কাজের চাপে প্রশিক্ষণ আর নেওয়া হয় না। সেই সুযোগ আসে গত বছর অক্টোবরে।

  • -B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor