পর্যটকে মুখরিত পাহাড়কন্যা বান্দরবান

জাফর আলম Date: 28 December, 2024
পর্যটকে মুখরিত পাহাড়কন্যা বান্দরবান

বান্দরবান: পরিবার-পরিজন আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে প্রকৃতির সাথে নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে  হাজারো পর্যটকের সমাগম হয়েছে পাহাড়, ঝর্ণা আর প্রাকৃতিক রূপে ঘেরা পাহাড়কন্যা বান্দরবানে।

জেলার অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন স্পট মেঘলা, নীলাচল, নীলগিরি, শৈল প্রপাত, প্রান্তিক লেক, চিম্বুক, ডিম পাহারসহ আরও বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। 

কয়েকদিনের ছুটির সুযোগে গত ২৪-২৫ ডিসেম্বর থেকে পর্যটকের স্রোত নেমেছে বান্দরবানে। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ছিল শুভ বড়দিনের সরকারি ছুটি। এর সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) একদিন বাড়তি নিয়ে সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে টানা চার দিনের অবসরে ছুটে এসেছেন মেঘে ঢাকা সবুজ পাহাড়ের কোলে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখন পর্যটক মুখর থাকছে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। যাতায়াত সুবিধার কারণে বান্দরবানের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে সহজেই ছুটে যাচ্ছে পর্যটকেরা। শীতের এই আমেজে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দেশের নানান প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা।

ঘুরতে আসা এক দম্পতি জানান, স্বামী, ভাই-বোনসহ পরিবার নিয়ে বান্দরবান ঘুরতে এসে খুবই আনন্দ উপভোগ করছেন তারা। আসার সময় রাস্তার দুই পাশের সৌন্দর্যসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রশংসা করেন তারা। 

এদিকে দীর্ঘদিন পর জেলায় আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম হওয়ায় হোটেল মোটেল রিসোর্টগুলো এখন কানায় কানায় পূর্ণ। সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে হোটেল ডি-মোরের অপারেশন ম্যানেজার ডমেপ্রু মারমা জানান, দীর্ঘদিন পর আমরা অনেক বেশি বুকিং পাচ্ছি। আগের তুলনায় আমরা অনেক আশাবাদী। সাপ্তাহিক ছুটি, বড়দিনসহ সামনে ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষ্যে বান্দরবানে পর্যটকের আগমন বাড়বে।

হোটেল মোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসেসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, সাপ্তাহিক ছুটি ও বড়দিন উপলক্ষ্যে বান্দরবানের হোটেল মোটেল ও রিসোর্টে শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। ইংরেজি নতুন বছরে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

তিনি জানান, পর্যটন খাতে বিগত চার বছরে ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যা থেকে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলেও জেলায় পর্যটক ভ্রমণের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে পর্যটন শিল্পের নির্ভরশীল ৮০ শতাংশ মানুষের জীবন ও জীবিকার অস্তিত্ব টিকে থাকবে।

পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান জোনের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহীন মিয়া বলেন, বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমাগমকে কেন্দ্র করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। আগত পর্যটকদের ভ্রমণে নিরাপত্তা দিতে আমরা সদা প্রস্তুত। 

জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, বান্দরবানের সাতটি উপজেলাতে প্রচুর পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। জেলা সদরের পাশাপাশি লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়িসহ প্রতিটি উপজেলায় পর্যটকেরা ভ্রমণ করছেন নিয়মিত। বেড়াতে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রশাসন কাজ করছে এবং পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor