পর্যটক শূন্য সৈকত - শঙ্কায় পর্যটন ব্যবসা

জাফর আলম, কক্সবাজার Date: 07 November, 2023
পর্যটক শূন্য সৈকত - শঙ্কায় পর্যটন ব্যবসা

কক্সবাজার : হরতাল-অবরোধের কারণে পর্যটক শূন্য বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। 

পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, গেলো এক সপ্তাহে কক্সবাজারের পর্যটনের সবখাতে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিন সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটক শূন্য কক্সবাজার সৈকত। চারদিকে সুনসান নীরবতা। ব্যস্ততা নেই সৈকতের ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক-ওয়াটার বাইক চালক ও ঘোড়াওয়ালাদের। একই সঙ্গে বালিয়াড়িতে খালি পড়ে আছে কিটকটগুলো।

সৈকতপাড়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয় পর্যটন মৌসুম। এসময় লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে সাগরতীর। কিন্তু পর্যটন মৌসুমের শুরুতে সমাবেশ, হরতাল ও অবরোধের কারণে পর্যটক শূন্য কক্সবাজার সৈকত। যার কারণে বিপাকে সৈকতপাড়ের ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক, ওয়াটার বাইক, ঘোড়াওয়ালা ও কিটকট ব্যবসায়ীরা।

সৈকতপাড়ের ফটোগ্রাফার ইব্রাহীম বলেন, এবার পর্যটন মৌসুমে ভাল ব্যবসা হবে আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন দেখি ভরf মৌসুমে পর্যটক শূন্য। গেলো পাঁচ দিন সৈকতে আসছি আর যাচ্ছি কোন আয় হচ্ছে না। কারণ হরতাল ও অবরোধের কারণে সৈকত এখন পর্যটক শূন্য।

বিচ চালক রহিম উল্লাহ বলেন, দুর্গাপূজার আগে প্রতিদিনই চার হাজার টাকা আয় করেছি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় হামুন, সমাবেশ, হরতাল ও অবরোধের কারণে গেলো এক সপ্তাহ ধরে পর্যটক শূন্য কক্সবাজার সৈকত। যার কারণে বিচ বাইক নিয়ে সৈকতে এসে বসে আছি। পর্যটক না থাকায় ব্যবসা হচ্ছে না।

কিটকট ব্যবসায়ী আব্দুর সবুর বলেন, বালিয়াড়িতে ২০ টি চেয়ার রয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে ২০০ টাকার বেশি আয় করতে পারেনি। হরতাল-অবরোধে আমাদেরকে একদম শেষ করে দিয়েছে।

সৈকতপাড়ে রয়েছে সহস্রাধিক বার্মিজ পণ্যের দোকান। পর্যটক শূন্যতার কারণে ব্যস্ততা নেই এসব দোকানদারদেরও। তারা বলছেন, পর্যটন মৌসুমে শুরুতেই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
 
সৈকতের লাবণী পয়েন্টের ছাতা মার্কেটের আচার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, গেলো এক সপ্তাহ আগেও প্রতিদিনই ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার আচার পর্যটকদের কাছে বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন পর্যটক নেই বেচাবিক্রিও নেই। দোকান খুলে বসে আছি, সকাল থেকে এক টাকারও আচার বিক্রি করতে পারেনি।

ছাতা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন দুলাল বলেন, ছাতা মার্কেটে ২০০ মতো দোকান রয়েছে। এসব দোকানে প্রতিনিধি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বার্মিজ পণ্য বেচাবিক্রি হতো। কিন্তু এখন বেচাবিক্রি একদম নেই বললেই চলে। বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল ও অবরোধে পর্যটক না থাকায় ব্যবসা হচ্ছে না। প্রতিদিনই তিন কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে।

কক্সবাজারে রয়েছে পাঁচ শতাধিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গেস্ট হাউস ও কটেজ। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যটক না থাকায় নেমে এসেছে নীরবতা। আর বিএনপি-জামায়াতের হরতাল ও অবরোধে কক্সবাজারের পর্যটনখাতে প্রতিদিনই শতকোটি টাকার লোকসান হচ্ছে।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল ও অবরোধের কারণে কক্সবাজারের পর্যটনখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় কক্সবাজার এখন পর্যটক শূন্য। যার ফলশ্রুতিতে কক্সবাজারের পর্যটনের সবখাতে প্রতিদিনই ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে।

সেলিম নেওয়াজ আরও বলেন, হরতাল ও অবরোধ এভাবে অব্যাহত থাকলে আমরা ব্যবসায়ীরা একদম শেষ হয়ে যাব। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবো তারা যেন হরতাল ও অবরোধের মতো কোন কর্মসূচি আর না দেয়।

পর্যটন মৌসুমে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে কেবলই হাহাকার। হোটেল-মোটেল জোনে হাজার হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীর এরকম পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে বেতনও তোলা যাবে না বলে জানিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

  • -B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor