ঢাকা: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের আর্থিক বিরোধে আন্তর্জাতিক বোর্ডের রায়ে বেবিচক কর্তৃক এডিসিকে ১,০০০ কোটিরও বেশি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শুনানিতে বোর্ড এ রায় প্রদান করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল এভিয়েশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দাবি করা অর্থ দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল এবং অডিট পর্যবেক্ষণের কারণে তা স্থগিত রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “এই টাকা মূলত তাদের প্রাপ্য ছিল। তবে অডিট-সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে তা দেওয়া যায়নি। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে ২৮ দিনের সময় রয়েছে। আপত্তি নিষ্পত্তি না হলে বিষয়টি সালিশি বোর্ডে যেতে পারে। চূড়ান্ত সালিশি রায় উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হবে।”
বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, রায়ের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এডিসি গঠিত হয় জাপানের মিতসুবিশি কর্পোরেশন ও ফুজিতা কর্পোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি কর্পোরেশন-এর সমন্বয়ে।
মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিনজন বিচারক নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক বিরোধ বোর্ড উভয় পক্ষের আর্থিক দাবি ও পাল্টা দাবি নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে। শুনানি শেষে বোর্ড রায় প্রদান করে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজের পরিধি বৈধভাবে বৃদ্ধি করা হয়নি এবং ত্রুটি অবহিতকরণ সময়সীমা ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে শেষ হয়েছে। ফলে চুক্তির আওতায় পারস্পরিক কর্মসম্পাদন নিরাপত্তা ফেরতের বিষয়ে এডিসির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ড জানায়, বিচার প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্ধারণের এখতিয়ার বেবিচকের নেই।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত পারস্পরিক সমঝোতা বা চূড়ান্ত সালিশি রায়ের মাধ্যমে পরিবর্তিত না হলে তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
চিঠিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন টার্মিনালের জন্য অপারেটর নিয়োগে বিলম্ব হওয়ায় এডিসিকে কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে কনসোর্টিয়ামকে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এডিসির একটি অংশীদার দেশের রাষ্ট্রদূত ২০ জুলাই বিমান চলাচল উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠিতে বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি বাংলাদেশের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও আর্থিক বিরোধের কারণে তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে, কনসোর্টিয়ামের অন্যতম প্রধান অংশীদার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি কর্পোরেশন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া অর্থ এখনো পায়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
কোভিড-১৯ মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও প্রকল্পটির কাজ ২ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে সম্পন্ন হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী বেবিচক তার কিছু বাধ্যবাধকতা পূরণ করেনি।
আরেকটি পৃথক চিঠিতে অন্য একটি দেশের রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে ঠিকাদার আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় গড়াতে পারে। এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ও ভবিষ্যৎ বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
-K