'বার্থ ট্যুরিজম' বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র 

-মনিটর রিপোর্ট Date: 01 June, 2025
'বার্থ ট্যুরিজম' বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র 

ঢাকাঃ সন্তান জন্ম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করলে সে আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

শুক্রবার (৩০ মে) দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুধুমাত্র সন্তানের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার যে প্রবণতা, তাকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই ধরনের উদ্দেশ্যে ভিসার আবেদন শনাক্ত হলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন এই অবস্থান ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যকে ট্যুরিস্ট ভিসার শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভিসা প্রার্থীর অভিপ্রায় নিয়ে কনস্যুলার কর্মকর্তার সন্দেহ হলে আবেদন বাতিল করার পূর্ণ অধিকার তার থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের নাগরিকত্ব লাভের আশায় শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবহার করা অনুমোদিত নয়। কনস্যুলার কর্মকর্তাদের যদি মনে হয় যে, এটি আপনার উদ্দেশ্য, তাহলে আপনার ভিসা আবেদন বাতিল করা হবে।

মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বহু বছর ধরে অনেক বিদেশি নাগরিক ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিতেন, যাকে বলা হয় ‘বার্থ ট্যুরিজম’।

বিশেষ করে কিছু এশীয় এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অভিজাত ও উচ্চবিত্ত পরিবার এ সুযোগ ব্যবহার করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে পাশ কাটিয়ে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা পড়াশোনার সুবিধা পেতে সন্তানকে মার্কিন নাগরিক বানানোর এই কৌশল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল।

মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণায় এই বিতর্কিত চর্চার প্রতি তাদের কঠোর অবস্থানের বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নতুন নীতিমালা বলছে, ট্যুরিস্ট ভিসা শুধুই ভ্রমণ এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে, নাগরিকত্ব অর্জনের ফাঁকফোকর খোঁজার জন্য নয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ন্যায়সংগত করবে না, একইসঙ্গে বৈধ পর্যটকদের ক্ষেত্রেও ভিসা ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor