বোয়িংয়ের স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমস অধিগ্রহণে ছাড়পত্র

-মনিটর অনলাইন Date: 10 August, 2025
বোয়িংয়ের স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমস অধিগ্রহণে  ছাড়পত্র

ঢাকাঃ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যারোস্পেস কোম্পানি স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমস অধিগ্রহণ করতে চাচ্ছে বোয়িং। এ প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র দিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কমপিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি’ (সিএমএ)। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে চুক্তিটি বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তাই দ্বিতীয় ধাপের গভীর তদন্তের প্রয়োজন নেই। 

বোয়িং ও স্পিরিট দুটিই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি হলেও যুক্তরাজ্যের বাজারে তাদের বড় ব্যবসা রয়েছে। তাই এ চুক্তির কারণে সেখানে প্রতিযোগিতা সীমিত করতে পারে কি না, তা পর্যালোচনা করেই অনুমোদন দিয়েছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বোয়িং জানিয়েছে, সিএমএর সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। এখনো চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপিয়ান কমিশন ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমসের মুখপাত্র জো বুচিনো জানান, সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকেই বোয়িং–স্পিরিট অধিগ্রহণ চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে তারা আশা করছেন।

চুক্তিটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের উইচিটা-ভিত্তিক স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমস প্রায় দুই দশকের স্বাধীনতা হারাবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাধীন অ্যারোস্ট্রাকচারস নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গত বছর বোয়িংয়ের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার বিনিময় চুক্তিতে সম্মত হয়। বোয়িংয়ের লক্ষ্য ছিল উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ এবং মান নিয়ন্ত্রণ আরো শক্তিশালী করা।

স্পিরিট আরো জানিয়েছে, তারা মালয়েশিয়ার সুবাংয়ে অবস্থিত কারখানা ৯ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে বিক্রি করছে কমপোজিটস টেকনোলজি রিসার্চ মালয়েশিয়ার (সিটিআরএম) কাছে। কারখানাটি থেকে ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের ৭৩৭ ও ৭৮৭ এবং এয়ারবাসের এ-২২০, এ-৩২০ ও এ-৩৫০ মডেলের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হবে।

বোয়িংয়ের জন্য চুক্তিটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক সংকটের মুখে পড়েছে। আর্থিক ক্ষতি বেড়েছে, কর্মীদের মনোবল ও জনসাধারণের আস্থাও কমেছে। তাই এ চুক্তিকে অনেকেই বোয়িংয়ের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্পিরিটকে অধিগ্রহণের মাধ্যমে বোয়িং তার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে পারবে। এতে যন্ত্রাংশ সরবরাহের সময়মতো প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পণ্যের গুণগত মান উন্নত হবে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor