৭৩৭ ম্যাক্স নিয়ে সংকট কাটছে না বোয়িংয়ের

মনিটর ডেস্ক রিপোর্ট  Date: 06 February, 2024
৭৩৭ ম্যাক্স নিয়ে সংকট কাটছে না বোয়িংয়ের

ওয়াশিংটন ডিসি: মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংকে সমস্যা ছাড়ছেই না। ফ্লাইট নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরপর বিপত্তি ও সে সূত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত মিলিয়ে জটিল দিকে গড়িয়েছে পরিস্থিতি। এ কারণে বসিয়ে রাখতে হয়েছিল শতাধিক ফ্লাইট। এবার বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজে নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে ৫০টি উড়োজাহাজে কিছু কাজ আবার করতে হবে। তবে ওই আকাশযানগুলো এখনো ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়নি। 

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ প্রজন্মের উড়োজাহাজ। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা এয়ারলাইনসের বহরে থাকা এ সিরিজের একটি ফ্লাইটে নিরাপত্তা ত্রুটি দেখা যায়। মাঝ আকাশে খুলে পড়ে একটি প্যানেল। এতে ফ্লাইটের একপাশে ফাঁকা গর্ত দেখা যায়। পরে ১৭১ যাত্রী ও ছয়জন ক্রু নিয়ে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এর পরই বোয়িংয়ের নিরাপত্তার বিষয়টি চর্চায় উঠে আসে।

সম্প্রতি বোয়িংয়ের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক মেমোয় সরবরাহের জন্য প্রস্তুত উড়োজাহাজের সমস্যা উঠে আসে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক ইউনিটের প্রধান স্ট্যান ডিল। মোমো অনুসারে, বোয়িংয়ের সাপ্লাইয়ার স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমসের এক কর্মচারী জানিয়েছেন, উড়োজাহাজের দুটি ড্রিল ঠিকভাবে করা হয়নি। 

বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়েছে বোয়িং। তারা বলছে, এটি তাৎক্ষণিক উড্ডয়নজনিত সুরক্ষাকে প্রভাবিত করার মতো ঘটনা নয়। ওই অবস্থায় সব বোয়িং ৭৩৭ নিরাপদেই চলাচল করতে পারবে। আমরা মনে করি, প্রায় ৫০টি উড়োজাহাজে কিছু কাজ আবার করতে হবে।

বোয়িংয়ের ভুল জায়গায় ড্রিলের সমস্যাটি প্রতিষ্ঠানের সুনামে সর্বশেষ ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেননা গত পাঁচ বছর বারবার প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নানা কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে ধাক্কায় সাম্প্রতিক ধাপ ছিল, গত ৫ জানুয়ারি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজের প্যানেল ছিটকে পড়া।

তবে ওই ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। গত সপ্তাহে বোয়িংয়ের সিইও ডেভিড ক্যালহাউন বুধবার বিনিয়োগকারীদের বলেছেন, ‘‌সমস্যাটি আমাদের জন্যই এবং আমরা সেটা বুঝতেও পেরেছি। সিদ্ধান্ত যাই নেয়া হোক না কেন, যা ঘটেছে তার জন্য বোয়িংই দায়ী। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ যাই হোক না কেন, আমাদের কারখানা থেকে যাওয়া উড়োজাহাজে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। আমাদের আরো ভালোভাবে কাজ করতে হবে।’

মেমোয় বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের রেন্টনে বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ফ্যাক্টরি চলতি সপ্তাহে এ গুরুত্বপূর্ণ কাজের ওপর নজর দেবে। এর পেছনে আরো কিছুদিন সময় দেয়া হবে যেন প্রতিষ্ঠানটি তার পণ্যের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে।

খরচ কমাতে গিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বোয়িং তার উড়োজাহাজের মূল অংশ একসঙ্গে পাওয়ার জন্য সরবরাহকারীদের ওপর ক্রমশ বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। উদাহরণস্বরূপ স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমস আগে শুধু বোয়িংয়ের ফিউজেলাজেস তৈরি করত। কিন্তু এখন তারা কখনো কখনো ককপিটও তৈরি করছে। দিন শেষে দেখা যায়, বোয়িং শুধু উড়োজাহাজের জন্য লোগো বানাচ্ছে আর বাকি সব সাপ্লাইয়ারদের থেকে নেয়া হচ্ছে।

তবে সাপ্লাইয়াররা ভালো মানের যন্ত্রাংশ দিচ্ছেন না, এটিই বোয়িংয়ের একমাত্র সমস্যা নয় বলেও জানিয়েছেন স্ট্যান ডিল। তার মতে, বোয়িংয়ের নিজস্ব উৎপাদনেও সমস্যা রয়েছে।

বোয়িং গত কয়েক বছর ম্যাক্স ও ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, উভয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জায়গায় ডেলিভারি বন্ধ রেখেছে। কারণ উড়োজাহাজগুলো নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হয়নি। এসবের কারণে এয়ারলাইন গ্রাহকেও বেশ ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গত সপ্তাহের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৩ সালে তাদের ২০২ কোটি ডলার ও গত পাঁচ বছরে ২ হাজার ৬০৭ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে।

বোয়িংয়ের প্রধান দুই গ্রাহক ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস গত মাসে বলেছিল, তারা বোয়িংয়ের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে অর্ডার করা ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের নতুন সংস্করণ হাতে পাওয়ার জন্য আর অপেক্ষা করছে না।

সাউথওয়েস্ট মূলত ৭৩৭ ম্যাক্স ৭ ও ইউনাইটেড ম্যাক্স ১০ মডেলের উড়োজাহাজ অর্ডার করেছিল। তবে দুটি মডেলের কোনোটিই যাত্রী বহন করার জন্য ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অনুমোদন পায়নি। 

কয়েক বছর আগে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের নকশাগত ত্রুটির কারণে দুটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। একটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে ও আরেকটি ২০১৯ সালের মার্চে। এতে মোট ৩৪৬ জন নিহত হয়।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor