ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ : ঝাঁকুনিতে ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট আহত, মামলা দায়ের

-মনিটর অনলাইন Date: 24 January, 2026
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ : ঝাঁকুনিতে ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট আহত, মামলা দায়ের

ঢাকাঃ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একজন অভিজ্ঞ ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট, যিনি ৩ দশকেরও বেশি সময় ধরে  সংস্থাটির সাথে কাজ করছেন, উড়োজাহাজে কর্মরত অবস্থায় গুরুতর আহত হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। 

তার অভিযোগ, ২০১৯ সালের জুনে লন্ডন হিথরো থেকে মুম্বাইগামী একটি উড়োজাহাজে, তীব্র ঝাঁকুনির কারণে তার হাঁটু ভেঙে যায়। তিনি দাবি করছেন, পাইলট যদি ঝড়ের মেঘ থেকে দূরে থাকতেন, তবে এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

৫৬ বছর বয়সী লরা ল্যানিগান,  যিনি একসময় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে উড়োজাহাজে সেবা দিয়েছেন অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের জুনে মুম্বাইয়ের কাছে যখন উড়োজাহাজটি অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, তখন তীব্র এক ঝাঁকুনি হয়। 

ল্যানিগান বলেন, এই ঝাঁকুনির কারণে তিনি উড়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান, যার ফলে তার হাঁটু ভেঙে যায় এবং কাঁধে বিচ্যুতি ঘটে। একে অপরের উপর পড়ে একটি পানীয় ক্যানও তার ওপর এসে পড়ে। উড়োজাহাজটি অবতরণের পর তাকে হুইলচেয়ারে করে নামানো হয়।

এই মামলায় বিভিন্ন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে ঝাঁকুনিটি এড়ানো সম্ভব ছিল, আবার অন্যরা বলেছেন তা সম্ভব ছিল না।

যদিও ল্যানিগান আদালতে স্বীকার করেছেন যে উড়োজাহাজ ক্রুদের জন্য যাত্রীদের তুলনায় ভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা প্রটোকল থাকে, তবে তার আইনজীবী দল দাবি করেছে যে পাইলট ঝড়ের মেঘ থেকে ২০ মাইল (৩২ কিলোমিটার) দূরে থাকা উচিত ছিল এবং তাকে ক্রুদের সিটবেল্ট বাঁধতে নির্দেশনা দিতে পারতেন। 

তারা বলছেন, "বিমান যে পথে চলছিল, তা কিউমুলোনিম্বাস মেঘের খুব কাছাকাছি ছিল এবং এটি বিপদজনক অবস্থানে ছিল।" তিনি £৭২,৫০০ (প্রায় €৮৩,০০০) ক্ষতিপূরণ চাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ দাবি করেছে যে সব ধরনের সাবধানতা গ্রহণ করা হয়েছিল। উড়োজাহাজটির সিটবেল্ট সাইন ছিল জ্বালানো এবং মৌখিক সতর্কীকরণও দেওয়া হয়েছিল। 

সংস্থাটির আইনজীবী বলেন, "পাইলটরা যেই আবহাওয়া লক্ষ্য করেছিলেন, তা কোনো কিউমুলোনিম্বাস মেঘ ছিল না। উড়োজাহাজের রাডারেও কোনো ঝড়ের লক্ষণ দেখায়নি।"

মামলাটি এখনও চলমান, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে:উড়োজাহাজ যাত্রীর মধ্যে ঝাঁকুনির কারণে আঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে এই ঝাঁকুনির সমস্যা আরও বাড়ছে। 

সম্প্রতি, আরও কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে যেখানে যাত্রীরা ঝাঁকুনির কারণে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। ২০২৫ সালের মার্চে, স্কাইওয়েস্টের ৫ জন যাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হন তীব্র ঝাঁকুনির কারণে। 

২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে, এক জার্মান নাগরিক ৬ ঘণ্টা উড়োজাহাজে ভেঙে যাওয়া পা নিয়ে বসে ছিলেন, এবং ২০২৪ সালের মে মাসে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে তীব্র ঝাঁকুনির কারণে এক যাত্রী মারা যান।

এছাড়া, ২০২৬ সালের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঝাঁকুনিপূর্ণ উড়োজাহাজ রুটগুলোর একটি সাম্প্রতিক তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor