মার্কিন বিমানবন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তা তল্লাশির নিয়মে পরিবর্তন

-মনিটর অনলাইন Date: 10 July, 2025
মার্কিন বিমানবন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তা তল্লাশির নিয়মে পরিবর্তন

ঢাকাঃ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে এখন থেকে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় যাত্রীদের আর জুতা খুলতে হবে না।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) পরিবহন নিরাপত্তা সংস্থার (টিএসএ) এই নতুন নিয়ম ঘোষণা করে দেশটির সরকার।

এ বিষয়ে ফরাসি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রেগান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নিয়ম ঘোষণা করেন।

২০০৬ সাল থেকে মার্কিন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশিতে যাত্রীদের জুতা খুলতে হতো। এর পেছনে কারণ ছিল ২০০১ সালে ‘সু বোম্বার’ রিচার্ড রিডের ঘটনা। তিনি প্যারিস থেকে মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জুতার মধ্যে লুকানো বিস্ফোরক দিয়ে হামলার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও অন্য যাত্রীরা তাকে আটকাতে সক্ষম হন।

নোয়েম বলেন, ‘গত ২০ বছরে আমাদের নিরাপত্তা প্রযুক্তি অনেক পরিবর্তিত ও উন্নত হয়েছে। এখন আমরা সরকারের সব বিভাগ মিলিয়ে একসঙ্গে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আতিথেয়তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিমানযাত্রীদের ও দেশের নিরাপত্তার মান বজায় রাখতে সক্ষম হবো বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

আল-কায়েদা সদস্য রিচার্ড রিড, সন্ত্রাসবাদসহ নানা অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।

এদিকে, টিএসএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুতা খোলার নিয়ম বাতিল হলেও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

এতে বলা হয়, টিএসএ’র বহুস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাকী দিকগুলো আগের মতোই চালু থাকবে। যেমন, পরিচয় যাচাই, সিকিউর ফ্লাইট ভেটিংসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য থাকবে।

গত কয়েক দশকে বেশকিছু সফল ও ব্যর্থ সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে হামলা চালানো হয়। তারপর এসব ব্যবস্থা আরো কঠোর করা হয়।

২০০৬ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আরেকটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছিল। যেখানে আকাশে উড়ন্ত কয়েকটি বিমানকে তরল বিস্ফোরক দিয়ে একসঙ্গে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। 

এরপর থেকেই সব ধরনের তরল ও জেল জাতীয় দ্রব্য এমনকি টুথপেস্ট নিয়েও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এছাড়া, হামলা প্রতিরোধে ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ওপরও অতিরিক্ত তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যাত্রীদের ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ বের করে দেখাতে হয়।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor