পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

-মনিটর রিপোর্ট Date: 22 March, 2026
পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার : পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে লাখো পর্যটকের সমাগমে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকেই সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণীসহ সব পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। 

এবারের ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি থাকায় দেশের নানাপ্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে এসেছেন অনেকে। বালুকাবেলায় তারা উপভোগ করছেন ভ্রমণের আনন্দ। 

পর্যটক মোমেন মাহমুদ বলেন, কক্সবাজারের প্রকৃতি আমাকে সবসময় বিমোহিত করে, ঈদ উপভোগ করতে তাই এখানে চলে এলাম। আরও দুই দিন থাকবো। খুবই ভালো লাগছে এখানে এসে।

পর্যটক সমাগমের কারণে প্রাণ ফিরেছে পর্যটন ব্যবসায়। ব্যস্থ সময় কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। 

বার্মিজ মার্কেটের শুঁটকির দোকানি মফিজুর রহমান বলেন বলেন, রমজানে ব্যবসা বন্ধ ছিল, গত দুই দিনে প্রচুর পর্যটক আসছে। সামনের দিনে তা আরও বাড়বে বলে আশা করি। এখন ব্যবসা ভালো যাবে বলে মনে হচ্ছে। লাভের মুখ দেখবো। 

হোটেল-মোটেল-রিসোর্টসহ শহরের ৫ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কোথাও কোনো রুম খালি নেই। আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত বেশির ভাগ হোটেলের অগ্রিম বুকিং রয়েছে বলে জানান হোটেল মোটেল মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে পর্যটকের চাপ বেড়েছে, প্রায় সব হোটেলেই পর্যটক আছেন। আমরা সব হোটেলকে নির্দেশনা দিয়েছি যেন পর্যটকদের হয়রানি করা না হয় এবং নায্যমূল্য রাখা হয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক তৎপরতা দেখা গেছে পর্যটন স্পটগুলোতে। 

কক্সবাজার সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার টিম লিডার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঈদের এ ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করছি এবং পর্যটকদের নিরাপদে সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করছি।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি টিম ও গোয়েন্দা টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি টিম পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, পর্যটকরা এই শহরের অতিথি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ যে কোনো সেবায় জেলা প্রশাসন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor