টানা ছুটিতে লোকারণ্য কক্সবাজার

জাফর আলম, কক্সবাজার Date: 28 March, 2026
টানা ছুটিতে লোকারণ্য কক্সবাজার

কক্সবাজার : কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এখনো লোকারণ্য। ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক মিলিয়ে টানা ছুটিতে ঢল নেমেছে পর্যটক-দর্শনার্থীর। 

কাল রবিবার (২৯ মার্চ) পর্যন্ত ৯ লাখের বেশি পর্যটক উপস্থিতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে সাত দিনে ৮ লাখের মতো পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, ১৯ মার্চ ঈদের ছুটির শুরু থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত পর্যটন খাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। ২৮ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাণিজ্যের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।

শুধু কক্সবাজার শহর নয়, সমুদ্রে স্নান ও সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি পর্যটকরা কক্সবাজারে অন্য দর্শনীয় স্থানগুলোয় ভিড় করছেন। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক, হিমছড়ি ঝরনা, ইনানী ও পাটোয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, টেকনাফের মাথিনকূপ, নাফ নদের সীমান্ত এলাকা, রামুর বৌদ্ধপল্লি, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ও মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরেও পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ছে। 

পাহাড়, ঝরনা, সাগর ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য একসঙ্গে উপভোগ করতেই এসব জায়গায় ছুটছেন তারা। এদিকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনে হোটেল-মোটেল জোন ও আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দূরপাল্লার বাসগুলো টার্মিনালে রাখা হলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাঝারি মানের যানবাহন শহরে প্রবেশ করায় জনভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে কলাতলী মোড়, বাইপাস সড়ক ও ডলফিন মোড়ে দিনভর যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল শুক্কুর জানান, প্রায় এক মাসের বেশি সময় পর পর্যটন খাতে বড় ধরনের গতি ফিরেছে। এরই মধ্যে হওয়া ৬০০ কোটি টাকার লেনদেনে আবাসন, পরিবহন, খাদ্য, বিনোদন ও খুচরা ব্যবসাসহ সব খাতকে চাঙা করেছে।

সৈকতের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘সি-সেইফ লাইফ গার্ড’-এর কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টো বলেন, সমুদ্রের প্রতিটি পয়েন্টেই পর্যটকের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ জানান, পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অধিকাংশ কক্ষ এক সপ্তাহ আগেই বুক হয়ে গিয়েছিল। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্পটগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। হোটেলে অতিরিক্ত কক্ষভাড়া ও রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য বাড়িয়ে আদায় হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছে। 

পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করাই জেলা প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। এ ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাঠে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় স্বস্তিতে রয়েছে দেশের মানুষ। ফলে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। মৌসুমের শেষ যাত্রায় পর্যটকদের এমন উপস্থিতি আমাদের আশান্বিত করেছে।

 সি সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান জানান, এই ঈদের মৌসুমে কক্সবাজারের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতে ২৭ জন লাইফগার্ড কাজ করছেন। বিভিন্ন পয়েন্টে লাল ও হলুদ পতাকা লাগানো হয়েছে এবং এসবের বাইরে সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও দুর্ঘটনা ঘটছে। 

অভিভাবকদের অসতর্কতায় সৈকতে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুরাও। গত ৭ দিনে প্রায় অর্ধশত হারানো শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বিচের কর্মী, লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor