রাঙ্গামাটি: শীত মৌসুম এলেই দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে শুরু হয় পর্যটকদের ভিড়। বিশেষত: পার্বত্য এলাকা থেকে শুরু করে সাগর উপকূল—সব জায়গাতেই দেখা যায় পর্যটনের ব্যস্ততা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চল, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, এবং পার্বত্য তিন জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—সবখানেই পর্যটকদের ঢল নেমেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শীত মৌসুমের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এসব জায়গায় ভিড় জমাচ্ছেন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নীল জলরাশি এবং পার্বত্য অঞ্চলের সবুজ পাহাড় ও ঝরনার সৌন্দর্য তাদের আকর্ষণ করছে।
তবে, পর্যটন মৌসুমে ভিড় বাড়ার ফলে যানজট, আবাসন সংকট এবং পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পর্যটকদের আরও দায়িত্বশীলভাবে ভ্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকে।
শীতকালীন ছুটি এবং মনোরম আবহাওয়ার কারণে সামনের দিনগুলোতে এই ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মেঘের রাজ্য খ্যাত রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে এখন পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। ১৬ ডিসেম্বরের আগে থেকে আগাম বুকিং হয়ে গেছে রিসোর্ট-কটেজের সব রুম। এর মধ্যে বুকিং না দিয়ে আসা শত শত পর্যটককে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে । নারী ও শিশুরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সীমাহীন।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাতেই কক্ষ না পেয়ে তিন শতাধিক পর্যটককে কটেজের বারান্দা, ক্লাবঘর, মসজিদসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘরে রাত কাটাতে হয়েছে। রিসোর্ট-কটেজের সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার রাতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। শনিবারও রিসোর্ট-কটেজের সব কক্ষ আগাম বুকিং ছিল। ফলে শনিবার রাতেও অনেককে রাত কাটাতে হয় ভোগান্তিতে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় কয়েকশত পর্যটক স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘরে, রিসোর্ট-কটেজের বারান্দা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্টোরকক্ষ ও ক্লাবঘরে যে যেভাবে পেরেছেন, রাত কাটিয়েছেন।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে রিসোর্ট-কটেজের কক্ষগুলো আগাম বুকিং দেওয়া হচ্ছে। বুকিং না নিয়ে যারা এসেছেন, তারা বিপদে পড়েছেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে সাজেকে পর্যটক আসতে শুরু করেন। সাপ্তাহিক ও বিশেষ ছুটির দিনগুলোতে রিসোর্ট-কটেজের সব কক্ষ ভাড়া হয়ে যাচ্ছে। গত সাপ্তাহিক ছুটিতে (১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর) সব ভাড়া হয়ে যায়। এছাড়া ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ছুটিতে সব কক্ষ ভাড়া হয়ে যায়। কক্ষ না পেয়ে রুইলুই পর্যটনকেন্দ্র থেকে অনেক পর্যটক ফিরে গেছেন।
সাজেক হিল ভিউ রিসোর্টের মালিক ইন্দ্রজিত চাকমা বলেন, কক্ষ বুকিং না নিয়ে অন্তত চার শতাধিক পর্যটক বেড়াতে আসেন। তাদের ক্লাবঘর, বারান্দা, মসজিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকতে হয়েছে। শনিবারও সব রিসোর্ট-কটেজের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
রিসোর্ট-কটেজ মালিক সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ থেকে রিসোর্ট-কটেজের কক্ষগুলো আগাম বুকিং হয়ে যাচ্ছে। বুকিং না দিয়ে আসলে স্থানীয় লোকজনের বাড়িঘরে, স্টোররুম ও গাড়িতে রাত কাটাতে হবে। অন্যথায় খাগড়াছড়ি ফিরে যেতে হবে। কক্ষ না পেয়ে ইতিমধ্যে অনেক পর্যটক ফিরে গেছেন।
সাজেক রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রের রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, বৃহস্পতিবার আমাদের ১১৫টি রিসোর্ট-কটেজে কোনো কক্ষ খালি নেই। এক সপ্তাহ আগে থেকে আগাম বুকিং নেওয়া হচ্ছে। ভোগান্তি এড়াতে অবশ্যই আগাম কক্ষ বুকিং দিয়ে ভ্রমণে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন কটেজ মালিকরা ।
-B