চিড়িয়াখানা থেকে কিনতে পারেন হরিণ, ময়ূর

- মনিটর অনলাইন রিপোর্ট Date: 21 August, 2021
চিড়িয়াখানা থেকে কিনতে পারেন হরিণ, ময়ূর

ঢাকাঃ শখের বসে কেউ হরিণ কিংবা ময়ূর কিনে লালন-পালন করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন জাতীয় চিড়িয়াখানায়। এবছর করোনাকালে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ৪৭টি চিত্রা হরিণ বিক্রি করে আয় করেছে ৩২ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

এখনো তাদের কাছে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১০০টি হরিণ বেশি রয়েছে, জানাল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

প্রতি জোড়া হরিণ চিড়িয়াখানা বিক্রি করছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকায়। আর ময়ূর বিক্রি করছে প্রতি জোড়া ৫০ হাজার টাকায়।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০১৬ সালে ২১টি চিত্রা হরিণ বিক্রি করেছিল তারা। ২০১৭ সালে দুইটি, ২০১৮ সালে ১২টি, ২০১৯ সালে চারটি, ২০২০ সালে আটটি হরিণ বিক্রি হয়। আর গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট তারা পর্যন্ত ৪৭টি হরিণ বিক্রি করেছে, যা আগের পাঁচ বছরের হরিণ বিক্রির সমান।

বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে চিড়িয়াখানা এগুলো বিক্রি করে থাকে। হরিণ কেনার অনুমতি দেওয়ার জন্যে বন অধিদপ্তরের ইন্সপেকশন দল সরেজমিন যাচাই করে দেখে যে, যিনি কিনবেন, তার হরিণ বা ময়ূর লালন-পালন করার সামর্থ্য আছে কি না। তবে, এগুলো অবশ্যই খাওয়ার জন্যে নয়, বললেন চিড়িয়াখানার বৃহৎ প্রাণী শাখার প্রধান ডা মো ওসমান গনি।

“কেউ এগুলো কিনলে বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা এর লালন-পালনে সহযোগিতা করেন। তা ছাড়া, স্থানীয় পশু হাসপাতালকেও যেকোনো সহযোগিতার জন্যে এ তথ্য জানিয়ে রাখা হয়। একইসঙ্গে প্রতি বছর এগুলোর বিপরীতে ট্যাক্স দিতে হয়,” তিনি আরও জানান।

অপরদিকে, ২০১৭ সাল থেকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ময়ূর বিক্রি শুরু করে। ওই বছর ছয়টি, ২০১৮ সালে ২০টি, ২০১৯ সালে ২৪টি ও ২০২০ সালে আটটিসহ এ পর্যন্ত মোট ৫৪টি ময়ূর বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ২৫ হাজার টাকা করে চিড়িয়াখানা এই বাবদ আয় করেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে, এ বছর তারা এখনো কোনো ময়ূর বিক্রি করেনি।

পাখি সেকশনের প্রধান ডা মো ওয়ালিউর রহমান বলেন, “ময়ূরের ডিম দেওয়া শেষের পথে। সেগুলোর বাচ্চা হলে যদি আমাদের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে আমরা আবার ময়ূর বিক্রি করব।“

“ময়ূরের চাহিদা অনেক। কিন্তু, ময়ূর তিন বছর পরপর ডিম দেওয়ায় এটার কিছুটা সংকট রয়েছে।“

চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা আব্দুল লতীফ জানান, “এখন আমাদের কাছে এক-দুই মাস বয়সী ১৩০টি ময়ূরের বাচ্চা আছে। ইনকিউবেটরে আরও ২০-৩০টি ডিম ফোটার অপেক্ষায়। আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ময়ূর বিক্রি শুরু করতে পারব।"

Share this post



Also on Bangladesh Monitor