ঢাকাঃ যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের চাহিদা কমে যাওয়ায় উড়োজাহাজের টিকিটের দাম কমছে। এতে এয়ারলাইনস খাতে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
বড় এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রত্যাশার তুলনায় যাত্রী কমে যাওয়ায় আসন বাড়ানোর পরিকল্পনাও আপাতত বন্ধ রেখেছেন।
সম্প্রতি আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ডেল্টা, সাউথওয়েস্ট, ইউনাইটেড, আলাস্কা ও আমেরিকান এয়ারলাইনসের নির্বাহীরা চাহিদা কমার বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত শুল্কনীতি, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী রবার্ট আইসোমের মতে, আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ ছুটি কাটাতে ও কষ্টার্জিত অর্থ খরচে অনীহা বোধ করেন। ফলে এয়ারলাইনসগুলোয় অতিরিক্ত আসন থেকে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ডেল্টা, সাউথওয়েস্ট ও ইউনাইটেড আসন বৃদ্ধির পরিকল্পনা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ডেল্টা, সাউথওয়েস্ট, আলাস্কা ও আমেরিকান এয়ারলাইনস ২০২৫ সালের আর্থিক পূর্বাভাসও প্রত্যাহার করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস সম্ভাব্য মন্দা বিবেচনায় দুটি পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তারা মুনাফা করতে পারবে।
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, মার্চে উড়োজাহাজের ভাড়া আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ফেব্রুয়ারিতেও ভাড়া ৪ শতাংশ কমেছিল।
এদিকে করপোরেট ভ্রমণ প্রত্যাশার তুলনায় বাড়ছে না।
ডেল্টার প্রধান নির্বাহী এড বাস্তিয়ান জানান, বছরের শুরুতে করপোরেট ভ্রমণ ১০ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু এখন তা স্থির হয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের খরচ কমানো আর গণছাঁটাইয়ের কারণে সরকারি ভ্রমণও অনেক কমেছে।
তবে প্রথম শ্রেণীর আসনের চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে। মার্কিন যাত্রীরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণে, বিশেষ করে ইউরোপগামী ফ্লাইটে আগ্রহী হচ্ছেন।
এয়ারলাইনস নির্বাহীরা আশা করছেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে গেলে ভ্রমণের চাহিদা দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী রবার্ট আইসোম বলেছেন, ‘নিশ্চয়তা ফিরে এলে অর্থনীতি দ্রুতই পুনরুদ্ধার হবে।’
-B