বায়ুদূষণের তালিকায় ফের শীর্ষে ঢাকা

-মনিটর রিপোর্ট Date: 19 February, 2026
বায়ুদূষণের তালিকায় ফের শীর্ষে ঢাকা

ঢাকাঃ বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগলেও বৃষ্টির দেখা না মেলায় মেগাসিটি ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। 

আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে রাজধানী ঢাকা। 

আজ সকালে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৭৬, যা পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে সামান্য বৃষ্টির পর দীর্ঘ সময় ধরে অনাবৃষ্টির কারণে ধুলোবালু ও দূষিত কণা বাতাসে মিশে পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

আইকিউএয়ারের বৈশ্বিক তালিকায় দেখা গেছে, একই সময়ে ২৬৩ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। 

এ ছাড়া ভারতের দিল্লি ১৯৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় এবং কলকাতা ১৯৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা চীনের ইউহান শহরের স্কোর ১৭২। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বায়ুদূষণের এই তীব্রতা গত কয়েক দিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তবে আজ ঢাকাই বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত বাতাসের শহরে পরিণত হয়েছে।

ঢাকার বর্তমান স্কোর ২৭৬ হওয়ায় এটি ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যদি এই স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে যায়, তবে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে ঘোষণা করা হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বর্তমান এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বায়ুদূষণের ফলে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকা এবং সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেই সাথে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় বাইরে কায়িক পরিশ্রম না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। রাজধানীর এই অসহনীয় বায়ুমান নিয়ন্ত্রণে বৃষ্টির প্রার্থনা ও কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor