চীনা নববর্ষের উৎসবে আজ মাতবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

-মনিটর রিপোর্ট Date: 26 January, 2026
চীনা নববর্ষের উৎসবে আজ মাতবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকাঃ ২৬ জানুয়ারি সোমবার। আজকের এ দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছে সুদূর বেইজিং বা কুনমিংয়ের উৎসবমুখর রাজপথের সেই চেনা আমেজ। 

কলা ভবনের সামনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ আজ কেবল ইটের দেয়াল আর ছায়ার সীমানায় আটকে নেই; বরং তা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে চীনা বসন্ত উৎসবের বর্ণিল রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের মিশেলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত এ বিশেষ সাংস্কৃতিক কনসার্টের সুর আজ যেন এক সুতোয় বেঁধেছে দুই দেশকে। ‘Voices Across Mountains and Seas, Bonds Between China and Bangladesh’—এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শুধু নববর্ষের উদযাপন নয়, বরং পাহাড় আর সমুদ্র পেরিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অটুট বন্ধুত্বের এক অনন্য স্মারক। এটি কেবল চীনা নববর্ষ উদযাপন নয়, বরং দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো ঘনিষ্ঠ করার এক নিখুঁত প্রয়াস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ২০১৬ সালে ‘ইয়ুনান বিশ্ববিদ্যালয়, চীন’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মূলত চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি শেখা, গবেষণা এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কাজ করে থাকে। 

ইনস্টিটিউটের এ কার্যক্রম চীন ও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

এবারের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে আর্ট পারফরম্যান্স, যেখানে চীনা নববর্ষ বা ‘স্প্রিং ফেস্টিভ্যাল’-এর ঐতিহ্যবাহী রঙ, সুর ও ছন্দ দর্শকদের সামনে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হবে। চীনা সংগীত, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দর্শকরা এক অনন্য সাংস্কৃতিক ভ্রমণে অংশ নিতে পারবেন, যা চীনা উৎসবের সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ততাকে তুলে ধরবে।

এ আয়োজনে দুই দেশের শিক্ষার্থীরা একত্রে আনন্দ ও ঐক্যের অনুভূতি ভাগাভাগি করবে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট সর্বসাধারণকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যাতে তারা এ চীনা নববর্ষ উদযাপনে সরাসরি অংশ নিতে পারেন। অনুষ্ঠানটি আগামীকাল বেলা ৩টা থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এ বছর কনসার্টের প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সাংস্কৃতিক গতিশীলতা পরিস্ফুটিত হয়েছে। শুধু অনুষ্ঠানের দিনটিই নয়, বরং তার আগেও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এ ইনস্টিটিউট বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের শৈল্পিক দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে।

২০২৫ সালের শেষের দিকে শিশুদের জন্য ‘চীনা ভাষার ক্লাস’ চালু করে এ ইনস্টিটিউট, যার উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের মধ্যে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা। পূর্ববর্তী বছরে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আন্তঃসংস্কৃতি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন, যেমন স্থানীয় স্কুলের সঙ্গে যৌথ উৎসব উদযাপন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন, যা বাংলাদেশের নিজস্ব ভাষা ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে কাজ করেছে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor