ঢাকাঃ আর মাত্র এক সপ্তাহ পর পর্দা নামবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসর।
রাজধানীর উপকণ্ঠে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার তৃতীয় সপ্তাহে ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
চলছে ছাড়ের ছড়াছড়ি। দুটি কিনলে একটি ফ্রি ও এছাড়া পণ্য সামগ্রীতে ছাড়ের ছড়াছড়িতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন স্টলগুলোতে।
প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো তৃতীয় সপ্তাহেও শুক্র ও শনি বার কসমেটিক্স, কাপড় ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত ক্রোকারিজ পণ্যের স্টল গুলোতেই ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া, খাবারের স্টলগুলোতেও ছিল অনেকের সরব উপস্থিতি।
দর্শনার্থীদের কারো আকর্ষণ ঘর সাজানো সামগ্রী ঘিরে, কারো আবার নিজেকে সাজানোর উপকরণের দিকে। এসব দর্শনার্থী ও ক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। তরুণ, বয়স্কদের পাশাপাশি বাদ যায়নি শিশুরাও।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ছুটির দিন হওয়ায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বা বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন মেলায়। স্টলে স্টলে ঘুরে নানা পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউবা মেতেছেন আড্ডায়, তুলছেন ছবি। কেউ খুঁজছেন তৈজসপত্র। কারো ব্যস্ততা ঘরসজ্জার পণ্য খুঁজতে। অনেকে আবার পছন্দের ফার্নিচার কিনছেন সাধ আর সাধ্যের মধ্যে। কারো কারো নজর ছাড়ের দিকে। তাই ছুটছেন দোকান থেকে দোকানে।
ছুটির দিনগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই উপচেপড়া ভিড় থাকে মেলা প্রাঙ্গণে। বেচা-বিক্রিও বেশ জমে ওঠে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অফার ও পণ্য ছাড় দিচ্ছেন তারা।
জেলখানার কারাবন্দিদের হাতে তৈরি হস্তশিল্পের পণ্য সামগ্রী পেয়ে খুশি ক্রেতারা। এছাড়া মেলার আকর্ষণ হিসেবে জুলাই আন্দোলন, ৫২ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তৈরি ‘বাংলাদেশ স্কয়ারে’ ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা এসে পণ্যসামগ্রী কিনতে পেরে তারা অনেক খুশি। তবে অনেকের কাছে স্টলগুলোতে পণ্যসামগ্রীর মূল্য বেশি ধরা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে ৩২৪টি স্টল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়াসহ মোট ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করেছে। ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলা কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রেখেছেন ৯০০ পুলিশ সদস্য ও আনসার বাহিনী।
মেলায় নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও রয়েছেন সদা প্রস্তুত।
মেলার দায়িত থাকা অপারেশন ইনচার্জ এস এম আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, মেলা শুরুর প্রথম সপ্তাহের শুক্রবারে দর্শনার্থী হয়েছিল ৮০ হাজারের মতো।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী হাসান বলেন, ছুটির দিনে ক্রেতা দর্শনার্থীর সমাগম বেশি হবে বিধায় আমরা আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করেছি। নিরাপত্তায় ৯০০ পুলিশ সদস্য ও আনসার নিয়োজিত রয়েছে। রয়েছে, সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাক্ষণ উপস্থিত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সুস্থ এবং সুন্দরভাবে মেলায় দর্শনার্থীরা আসছেন এবং ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বেচাকেনা করছেন।
-B