ঢাকা : নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬।
ওই দিন সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এবার মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ প্রাঙ্গণ, যেখানে দর্শনার্থীরা দেশের ইতিহাস জানার সুযোগ পাবেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইপিবি জানিয়েছে, ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬ উপলক্ষে ২৯ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মেলার সার্বিক দিক তুলে ধরবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
মেলাটি যৌথভাবে আয়োজন করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান জানিয়েছেন, মেলায় ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, সিঙ্গাপুর ও আফগানিস্তানের স্টল থাকতে পারে। এবারের মেলায় আফগানিস্তানের কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ প্রাঙ্গণ, যেখানে দর্শনার্থীরা দেশের ইতিহাস জানার সুযোগ পাবেন। এখন পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফইসি) চলছে কর্মব্যস্ততা।
এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবার মেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৫০টির বেশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সুবিধায় থাকছে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা। টিকিটের দাম গতবারের মতোই ৫০ টাকা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকছে দুটি শিশুপার্ক।
জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট রপ্তানি উন্নয়ন বোর্ডের (ইপিবি) কার্যালয়ে ১৪৮তম পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ডিআইটিএফ এর নাম বদলে ঢাকা বাণিজ্য মেলা (ডিটিএফ) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ওই সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় মেলার সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক’ নামটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারণ শুরু থেকে দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা নিয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হলেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল খুব কম।
বাণিজ্য মেলা থেকে আন্তর্জাতিক শব্দ বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা নিয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের লক্ষ্য ছিল-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন। সেই সঙ্গে স্থানীয় বাজারের সঙ্গে তাদের পরিচিত করানো।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান দূতাবাস বা সরকারি প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে অংশগ্রহণ না করে স্থানীয় এজেন্ট বা ব্যক্তির মাধ্যমে অংশ নিচ্ছে। ফলে পণ্য ও সেবার মান যাচাই করা যাচ্ছে না। অনেক সময় মানহীন বা স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যও বিদেশি ব্র্যান্ড নামে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিদেশি ব্র্যান্ড বা উৎপাদকেরা সরাসরি না থাকায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন।
প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে মেলা থেকে আন্তর্জাতিক নাম বাদ দেওয়া হয় ওই সময়। তবে নাম পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত সর্বশেষ বাণিজ্য মেলা স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বাতিল হয়েছে।
-B