দুবাইয়ের পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা

-মনিটর ডেস্ক রিপোর্ট Date: 02 April, 2026
দুবাইয়ের পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা

ঢাকাঃ ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা ত্রিমুখী যুদ্ধের কারণে দুবাইয়ের পর্যটন খাতে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বুর্জ আল আরব ও অন্যান্য আইকনিক হোটেলগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বুকিং বাতিলের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং এই খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি) জানিয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাতে বছরে ৩৪ থেকে ৫৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, এবং দুবাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইরানি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং টানা ৩ দিন বন্ধ থাকে। এতে লক্ষাধিক যাত্রী আটকে পড়েন। 

ইউএই সরকার ২০ হাজার ২০০ আটকে পড়া পর্যটকের খাবার ও থাকার খরচ বহন করার ঘোষণা দেয়। এমিরেটস এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য ক্যারিয়ারগুলো ফ্লাইট সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। 

ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বলছে, যুদ্ধের আগে যেখানে এমিরেটস দৈনিক ৫২৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৩০৯-এ। 

আবু ধাবির যায়েদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিমানবন্দরগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করত, যা এখন ব্যাহত হয়ে পুরো বিশ্বের ভ্রমণকে প্রভাবিত করছে।

এদিকে, দুবাইয়ের হোটেলগুলোর বুকিং ও রুমের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে, এবং গন্তব্য হিসেবে ইউরোপে পর্যটকদের প্রবাহ বেড়েছে। 

টুরিজম ইকোনমিক্সের রিপোর্ট অনুসারে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন শিল্পের পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও, সংকটের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হবে। দুবাইয়ের পর্যটন খাত এখন এক অন্ধকার টানেলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এবং পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

দুবাইয়ের হোটেল ম্যানেজাররা বলছেন, “আমরা আগে কোভিড মোকাবিলা করেছি, এবারও করব। কিন্তু এবারের ধাক্কা অনেক বেশি গভীর।” সরকারি উদ্যোগ, মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এবং নিরাপত্তা প্রটোকল জোরদার করে হয়তো আস্থা ফেরানো যাবে, কিন্তু বর্তমানে দুবাইয়ের পর্যটন খাত এক অন্ধকার টানেলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

দুবাই টুরিজম অফিস জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তারা হোটেলগুলোকে আটকে পড়া অতিথিদের সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছে। সরকার ১ বিলিয়ন দিরহাম (প্রায় ২৭২ মিলিয়ন ডলার) তহবিলঘোষণা করেছে, যাতে হোটেলগুলোর সরকারি ফি তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং টুরিজম দিরহাম ফি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব স্বল্পমেয়াদি সাহায্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি পূরণ করতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor