মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন মানচিত্রে নতুন হটস্পট মিশর

-মনিটর অনলাইন Date: 26 January, 2026
মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন মানচিত্রে নতুন হটস্পট মিশর

ঢাকাঃ ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে পর্যটক ভ্রমণে প্রবৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করছে মিশর। পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ ও অবকাঠামোর প্রসারে দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

জাতিসংঘের পর্যটন বিষয়ক সংস্থা ইউএন ট্যুরিজমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, আরব বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এ অর্থনীতিতে গত বছর পর্যটক ভ্রমণে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। 

ইউএন ট্যুরিজমের ‘ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ব্যারোমিটার’ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে পর্যটক আগমনে গত বছর মিসরের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। এ সময়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা জর্ডান ও কাতারের প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ১২ ও ৪ শতাংশ।

এছাড়া এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) পর্যটক আকর্ষণে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মূলত এ দেশগুলোর ধারাবাহিক সাফল্যের ওপর ভর করেই গত বছর মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক পর্যটন পুনরুদ্ধারে অন্যসব অঞ্চলকে ছাড়িয়ে গেছে।

গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম, লোহিত সাগরের রিসোর্ট ও ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো মিশরের এ সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। এতে ২০২৫ সালে দেশটির পর্যটন খাত থেকে আয় আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। মূলত এ খাতের ওপর ভর করেই মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পর্যটন খাতে করোনা মহামারীর প্রভাব দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।

২০২৫ সালে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে মিশর, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। 

দেশটির পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উন্নত আকাশপথ যোগাযোগ ও চার্টার ফ্লাইটে ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইজিপশিয়ান সিভিলাইজেশন ও গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম পর্যটকদের বেশি আকৃষ্ট করছে। 

বর্তমানে মিশরের জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশ হিস্যা পর্যটন খাতের। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান এ উৎস থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি পর্যটক পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কায়রো।

করোনা-পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত অন্যসব অঞ্চলের তুলনায় দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর এ অঞ্চলে বিদেশী পর্যটক ৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১০ কোটিতে পৌঁছেছে। অথচ ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৬ লাখ।

ইউএন ট্যুরিজমের সেক্রেটারি জেনারেল শাইখা আল নওয়াইস জানান, পর্যটন পরিষেবায় উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে ভ্রমণ চাহিদা ছিল অনেক। ২০২৬ সালেও এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকলে চলতি বছর আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতে ৩-৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএন ট্যুরিজম। সংস্থাটির প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে পর্যটন থেকে আয় হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। যাত্রী পরিবহনসহ এ খাত থেকে মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট পণ্য ও সেবা রফতানির ৬ শতাংশই আসে পর্যটন থেকে। তবে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত চলতি বছর খাতটিতে বড় ধরনের পর্যটনে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor