পর্যটন শিল্পের বিকাশে কর শুল্ক সুবিধা চান উদ্যোক্তারা

মনিটর রিপোর্ট Date: 01 March, 2024
পর্যটন শিল্পের বিকাশে কর শুল্ক সুবিধা চান উদ্যোক্তারা

দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে ট্যুর অপারেটরদের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং আবাসিক হোটেলগুলোর ওপর আরোপিত ভ্যাটের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। সেই সঙ্গে বিদেশী পর্যটক আকর্ষণে ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা ও বিমান ভাড়ায় বিশেষ সুবিধা প্রদান, পর্যটন শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং সরকারি রিকুইজিশনের নামে পর্যটন ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ব্যবসায়ীরা। 

এছাড়া দেশের হোটেল ও গেস্ট হাউজগুলোয় অতিথিদের সর্বোত্তম সেবা দিতে উন্নত হোটেল নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সরকারের নীতিসহায়তার পাশাপাশি সেবার মান বাড়াতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোর চার্জ সহনীয় করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এফবিসিসিআইয়ের ট্যুর, ট্রাভেল এবং হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি, হোটেল ও গেস্ট হাউজবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি ও সিলেট বিভাগের ল্যান্ড পোর্ট, বর্ডার ট্রেড, ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রান্সশিপমেন্ট বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির পৃথক বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।  এফবিসিসিআই থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘পর্যটন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। আমাদের জিডিপিতে এ খাতের অবদান মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এটিকে অন্তত ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

এ সময় কমিউনিটি ট্যুরিজম, ইকো ট্যুরিজম, রেলিজিয়াস ট্যুরিজমসহ পর্যটন খাতের জন্য নতুন নতুন পণ্য উন্নয়নের আহ্বান জানান মাহবুবুল আলম। খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আহ্বান করেন তিনি। সব অংশীজনের প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে পর্যটনবান্ধব নীতিমালা উন্নয়নে এফবিসিসিআই কাজ করবে বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি।

সভায় অংশ নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি আমিন হেলালী বলেন, ‘পর্যটন এমন একটি খাত যা গোটা অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে। সরকার ও বেসরকারি খাত সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ শিল্পকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেবে সেই কর্মপরিকল্পনা জরুরি।’ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত সব অংশীজনের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি সুস্পষ্ট সুপারিশমালা প্রস্তুত করে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পর্যটন খাতে বিদ্যমান ছোট ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. মুনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর টয়লেট ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উন্নত করা জরুরি। এটা একজন ট্যুরিস্টের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। স্পটের নিকটবর্তী টয়লেট ব্যবস্থা উন্নত না করা গেলে ট্যুরিস্টরা সেখানে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না। পাশাপাশি পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয়ে পর্যটন ব্যবসায়ীদের সমস্বরে কথা বলা উচিত।’

কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু মুর্শেদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের জন্য পর্যটন শিল্প হতে পারে তৈরি পোশাকের পরে অন্যতম বড় খাত। বৈশ্বিক পর্যটকদের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে দেশের পর্যটনপণ্য ও সেবা উন্নয়নসহ ‘এক জেলা এক পণ্য’ ভিত্তিতে কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

কমিটির চেয়ারম্যান এবং ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (টোয়াব) সদ্য সাবেক সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, ‘সুযোগ পেলেই আমাদের দেশের পর্যটনসেবার মানকে ভারত, ভুটান এবং শ্রীলংকার পর্যটনসেবার সঙ্গে তুলনা করা হয়। অথচ পর্যটন উন্নয়নে তারা যেসব নীতিসহায়তা পাচ্ছে, আমরা সে রকম পাচ্ছি না। উল্টো পর্যটন মৌসুমে সরকারি রিকুইজিশনের নামে আমাদের হোটেল ও রিসোর্টের রুম, বোট-হাউজ এবং অন্যান্য সেবাগুলো অনেকটা জোরপূর্বক দখল করে রাখা হচ্ছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’

বাংলাদেশে ট্যুরিস্ট ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা দ্রুত হ্রাসের আহ্বান জানান টোয়াবের সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশী। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ে পর্যটন-বিষয়ক আন্তর্জাতিক ব্লগারদের দেশে এনে বাংলাদেশ ঘুরিয়ে দেখানো ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন হাইকমিশনে নিযুক্ত কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের কাজে লাগানোর পরামর্শ তার। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ট্যুর অপারেটরদের নিয়ে বিটুবি সেশন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে হোটেল ও গেস্ট হাউজ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান ইরাদ আলি বলেন, ‘হোটেলগুলোতে অ্যালকোহল আমদানির ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে ৪০ ভাগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ৬০ ভাগ আমদানি করতে হয়। এটা আমাদের জন্য কষ্টকর। বিদেশ থেকে আরো বেশি আমদানির অনুমতি দেয়া উচিত।’ এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ও হোটেল স্টার প্যাসিফিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করে জরিমানার টাকার একটা অংশ অভিযোগকারী পায়। এটির সুযোগ নিয়ে লাভবান হচ্ছে কুচক্রী মহল, যা ইন্ডাস্ট্রিকে ধ্বংস করছে।’

এছাড়া সিলেট বিভাগের ল্যান্ড পোর্ট, বর্ডার ট্রেড, ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রান্সশিপমেন্ট বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে দেশের স্থলবন্দর এবং শুল্ক স্টেশনগুলোয় আমদানীকৃত পণ্যের বিদ্যমান লেবার হ্যান্ডেলিং চার্জ, পণ্য লোড-আনলোড চার্জ, ইকুইপমেন্ট চার্জ প্রভৃতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন আমদানিকারক ও রফতানিকারকরা। সেসঙ্গে লজিস্টিকস সক্ষমতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ও সড়ক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নসহ বন্দরে ব্যবসায়ীদের অযাচিত হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান তারা। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকরা, স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যানরা, সদস্যরা, ব্যবসায়ী নেতারা প্রমুখ।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor