ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সুবিধার্থে চালু হয়েছে বিশেষ ‘প্রবাসী লাউঞ্জ’। বিমানবন্দরের বহুতল পার্কিংয়ের কাছে স্থাপিত এ লাউঞ্জটি প্রবাসীদের বিদায় জানাতে আসা ও তাদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষারত স্বজনদের জন্য এক আশির্বাদস্বরূপ।
প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, আগে তারা বিমানবন্দরের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন, যা ছিল বেশ কষ্টকর। তবে এখন ‘প্রবাসী লাউঞ্জ’ চালুর ফলে তারা অপেক্ষার সময়টুকু আরও স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারছেন।
একজন অপেক্ষারত স্বজন বলেন, "আমরা এখন বিমানবন্দরের বাইরে না থেকে ওয়েটিং লাউঞ্জে বসতে পারছি। এটি সত্যিই দারুণ একটি উদ্যোগ। এখানে যারা এসেছেন, সবাই বেশ স্বস্তি অনুভব করছেন।"
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবাসী যাত্রী ও তাদের স্বজনদের ভ্রমণকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতেই এ লাউঞ্জ চালু করা হয়েছে। নতুন এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীদের পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা।
আরেকজন বলেন, ‘বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য লাউঞ্জের ব্যবস্থা খুব ভালো হয়েছে। এখানে আমরা বিশ্রাম নিতে পারি, অনেকে ঘুমাচ্ছেন। খাবারও খাওয়া যায়। এই ব্যবস্থা করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।’
গত বছরের ১১ নভেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উদ্বোধন হয় দুটি লাউঞ্জ। এর একটি প্রবাসীদের জন্য নির্মিত বিশেষায়িত ‘প্রবাসী লাউঞ্জ’। অন্যটি ‘ওয়েটিং লাউঞ্জ’, যেটি তৈরি করা হয়েছে যাত্রী ও অপেক্ষমান স্বজনদের জন্য। এরপর থেকে প্রবাসীরা বিমানবন্দরে বিশ্রাম, খাওয়া ও নামাজ পড়ার সুবিধা পাচ্ছেন। লাউঞ্জে নারীদের জন্যও বিশ্রাম এবং নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সরেজমিন ওয়েটিং লাউঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বাইরে যাওয়া এবং প্রবাস থেকে আসা যাত্রী ও স্বজনরা কেউ বসে আছেন আবার কেউ ঘুমাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার নামাজও পড়ছেন। বাইরের প্রচন্ড রোদ থেকে রক্ষা পেতে সুশিতল স্থানে বসে অনেকে গল্পেও মেতেছেন।
এদিকে প্রবাসীদের জন্য লাউঞ্জেই খাবারের দোকানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যেখানে বিএমইটি কার্ডধারী কর্মীরা কম মূল্যে খাবার কিনে খেতে পারেন।
প্রবাসী লাউঞ্জে খাবারের এক দোকানকর্মী বলেন, ‘এখানে যে সব খাবার রয়েছে বিএমইটি কার্ডধারী কর্মীরা ৩০ শতাংশ কম মূল্যে নিতে পারেন। বার্গার, শর্মা, চা, কফিসহ সফট ড্রিঙ্কস রয়েছে। প্রত্যেকটিতে প্রবাসীদের জন্য ছাড় আছে।’
একজন সুপার ভাইজার বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ১ হাজার প্রবাসী সেবা নিচ্ছেন। তবে এটি কখনও কখনও আরও বেড়ে যায়। কম মূল্যে খাবার পাওয়া, রেস্ট নেওয়া সব মিলিয়ে প্রবাসীরা আমাদের এখানে এসে অনেক উপভোগ করেন।’
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ফ্লাইট থেকে নেমে যেন কোনও ধরনের বিড়ম্বনার শিকার না হন, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা লাউঞ্জ স্থাপন করেছি তাদের বাড়তি সুবিধার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘একজন প্রবাসী বিমানবন্দরে নেমে কিংবা বাইরে যাওয়ার জন্য এসে এখানে বিশ্রাম নিতে পারছেন, খেতে পারছেন, নামাজ কিংবা অন্যান্য কাজও সারতে পারছেন। এটাই লাউঞ্জের সুবিধা।’
তিনি বলেন, ‘নারীদের জন্যও আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। নারী-পুরুষ উভয় রেমিট্যান্স যোদ্ধা আমাদের এই সুবিধা নিতে পারছেন। এছাড়াও প্রবাসীদের জন্য শাটল বাসসহ আরও কিছু সুবিধা রয়েছে।’
-B