আবারও বাংলাদেশের রেটিং কমিয়েছে ফিচ

মনিটর রিপোর্ট Date: 28 May, 2024
আবারও বাংলাদেশের রেটিং কমিয়েছে ফিচ

ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান (রেটিং) কমিয়েছে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস। সংস্থাটি বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি ইস্যুয়ার ডিফল্ট রেটিং (আইডিআর) ‘বিবি মাইনাস’ থেকে কমিয়ে ‘বি প্লাস’ করেছে। তবে দেশের অর্থনীতি সম্পর্কিত পূর্বাভাস আগের মতোই স্থিতিশীল রেখেছে ফিচ রেটিংস। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান কমানো হলেও বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘বি’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বিশ্বে বর্তমানে যে তিনটি ঋণমান নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান একত্রে ‘বিগ থ্রি’ হিসেবে পরিচিত, ফিচ তাদের একটি। বাকি দুটি মুডিস ও এসঅ্যান্ডপি। গত ডিসেম্বরে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের আইডিআর স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক (বিবি মাইনাস) করেছিল ফিচ। ছয় মাসের মধ্যে আবারও ঋণমান অবনমন করেছে মার্কিন এ প্রতিষ্ঠানটি।

ঋণমান বি প্লাসে নামিয়ে আনার কারণ হিসেবে ফিচ রেটিংসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল। রিজার্ভ ক্ষয় ঠেকাতে অনেক ব্যবস্থা নিলেও শিগগির পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে যাচ্ছে না। তাই অর্থনীতির বহিস্থ খাতে ধাক্কা লাগলে বাংলাদেশ আরও অরক্ষিত হয়ে পড়বে।

ফিচ রেটিংস মনে করে, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকাতে ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশ যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। বাজারের ডলার সংকট মোকাবিলা করাও সম্ভব হয়নি। এখন যে ক্রলিং পেগ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে মুদ্রার বিনিময় হারের নমনীয়তা বাড়বে। তবে এই নীতির কল্যাণে যে বিদেশি মুদ্রাবাজারের সংকট মোকাবিলা করা যাবে বা রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে, তা পরিষ্কার নয়।

দেশের অর্থনীতি নিয়ে ফিচের স্থিতিশীল পূর্বাভাসের অর্থ হলো-নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো নির্ভরযোগ্য ঋণদাতার সঙ্গে চুক্তি, সংস্থাটির নির্দেশিত সংস্কারকাজে হাত দেওয়া ও ব্যাংকিং খাতের সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া, সরকারি ঋণ সীমার মধ্যে রাখা এবং মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধির ভালো সম্ভাবনাকে এর কারণ হিসেবে দেখছে তারা।

ফিচ রেটিংস বলছে, রিজার্ভ কমে যাওয়ার মূল কারণগুলোর একটি পুঁজি পাচার। প্রবাসী আয়ের বড় একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক পথে দেশে আসছে। এই পরিস্থিতিতে জানুয়ারির পর দেশের রিজার্ভ কমেছে ১৫ শতাংশ। এখন রিজার্ভ নেমে এসেছে ১৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। ফিচ আশা করছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, সে কারণে রিজার্ভ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে। তবে বিদেশি মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় নতুন যেসব পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং মুদ্রার আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার অনানুষ্ঠানিক হারের সমান হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।

ফিচ রেটিংস আরও বলছে, বি শ্রেণির ঋণমানে যেসব দেশ আছে, সেসব দেশের গড় সরকারি ঋণের তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ এখনো কম। কিন্তু রাজস্ব আয়ে দুর্বলতার কারণে বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে না। সেই সঙ্গে ঋণের উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে সহায়তা দেওয়া ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর ঋণ- এসব কারণে সরকারের রাজস্ব পরিস্থিতি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ মধ্যমেয়াদে যে বিদেশি ঋণ নিয়েছে, সেগুলো মূলত দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারদের কাছ থেকে নেওয়া। এসব উৎস থেকে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও ঋণ পাবে। ফলে ডলার সংকট থাকলেও দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিনষ্ট হবে না বলে মনে করে ফিচ।

এ ছাড়া সমকক্ষ দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণও কম। বিদেশ থেকে যত ঋণ ও সহায়তা আসছে তার মাত্র ৯ দশমিক ২ শতাংশ; যেখানে বি ঋণমানভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে গড় হচ্ছে ২০ শতাংশ। আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তির কারণে অন্যান্য বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উৎসগুলো থেকে ঋণ পাওয়া অব্যাহত আছে। এটি ইতিবাচক বলে মনে করছে ফিচ রেটিংস।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor