বরিশালঃ যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা–বরিশাল আকাশপথে একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন।
একসময় এই রুটে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮টি পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল করত, যা স্বল্প সময়ে আরামদায়ক যাতায়াতের অন্যতম ভরসা ছিল। তবে বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন সপ্তাহে মাত্র ২ দিন ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ায় আকাশপথে যাতায়াত প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।
ফলে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে সড়কপথে দীর্ঘ, সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণ করতে হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও কর্মব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কেবল বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহের শুক্র ও রবিবার ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রী চাহিদার তুলনায় যা একেবারেই অপ্রতুল।
বরিশাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু চালুর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন ৪টি, বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ার ২টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করতো।
পরবর্তীতে যাত্রী সংকটের অজুহাতে প্রথমে নভোএয়ার এবং পরে ইউএস-বাংলা তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই ২০২৫ থেকে সাময়িকভাবে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশাল ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সাথে আকাশপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
নিয়মিত যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী থাকলেও লোকসানের অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখাটা অযৌক্তিক। এতে তাদের মূল্যবান সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই রুটে যাত্রী চাপ আরও বাড়বে, তাই দ্রুত প্রতিদিনের ফ্লাইট চালুর দাবি জানান তারা।
বরিশাল বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রান্ত খান বলেন, “বর্তমানে প্রতিটি ফ্লাইট ৭০–৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলছে। যাত্রী সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।” সুবিধাজনক শিডিউল করা গেলে যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে।
বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক। তবে ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
-B