চট্টগ্রাম : সাগরপাড়ের চট্টগ্রামে সবুজ ও জলাশয়বেষ্টিত ফৌজদারহাট ডিসি পার্কে আজ শনিবার (৪ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী বর্ণিল ফুল উৎসব। তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুল উৎসব চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি হবে আনন্দ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমাবেশ।
১৩৬ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের আসর বসবে এখানে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ উৎসবের আয়োজন করেছে। ফুল উৎসবের উদ্বোধন করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ। উপস্থিত থাকবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুল উৎসব। চট্টগ্রামে তৃতীয় বারের মতো এ আয়োজন হতে যাচ্ছে। এটি হবে আনন্দ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমাবেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা ফুলের সমারোহে ডিসি পার্ককে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রজাতি ভিন্ন রঙ, আকৃতি এবং ঘ্রাণে সমৃদ্ধ যা সহজেই দর্শকদের মনকে আলোড়িত করবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দর্শকপ্রিয় করতে দুবাইয়ের মিরাকল গার্ডেনের আদলে বাগান সাজানো হয়েছে। ফুল উৎসবের পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক আয়োজন, ঘুড়ি, ভায়োলিন ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাম্পান উৎসব। ফুল উৎসব শুরুর আগেই হাজারো দর্শক আসছেন প্রতিদিন।
জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের বৃহত্তর এই আয়োজনে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ-গাঁদাসহ ১৩৬ প্রজাতির ফুলের সমারোহে দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন দেশীয় সাংস্কৃতির নানা আয়োজন।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্ক দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। টিকিটের মূল্য হবে জনপ্রতি ৫০ টাকা। উৎসব ঘিরে বসবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় খাবারসমৃদ্ধ গ্রামীণ মেলা। সেই সঙ্গে চলবে নাচ, গান, ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, গতবছর এ ফুল উৎসবে ৯ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছিল। এবার ১২ লাখের মতো দর্শনার্থী সমাগম হওয়ার আশা করছে জেলা প্রশাসন। কাউন্টারের বাইরে দর্শনার্থীরা অনলাইনেও টিকিট কেটে ফুল উৎসবে যেতে পারবেন।
ফুল উৎসবে গাছ সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ইফা ল্যান্ডস্ক্যাপ গার্ডেন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্মা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাউসার আল ইমরান জানিয়েছেন, দেড় মাস ধরে ফুল উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম ছাড়াও যশোর, রংপুর, ঢাকা, দিনাজপুর, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুল গাছ আনা হয়েছে।
এবারের উৎসবে স্থান পাচ্ছে বেশিরভাগই বিদেশি প্রজাতির শীতকালীন ফুল। সেখানে আছে ২৫ ধরনের গোলাপ, স্টক, গেজানিয়া, ক্যামেলিয়া, হলিহক, স্নোবক, নেসটিয়াম, লিলিয়াম, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকার মতো ফুল। এ ছাড়া টিউলিপও আনা হবে বলে জানালেন কাউসার আল ইমরান।
-B