চট্টগ্রাম: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রামের পর্যটনকেন্দ্রগুলো যেন নতুন সাজে সেজে উঠছে। পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে চলছে জোর প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
ঈদের পর দর্শনার্থীরা যেন স্বস্তিদায়ক ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সময় কাটাতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাগর, পাহাড়, নদীর পাশাপাশি আছে ডজনের বেশি অপরূপ ঝরনা। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মহামায়া লেক ও চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’স লেক পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়া পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, পারকি সমুদ্র সৈকতও কক্সবাজার সৈকতের আবহ পেয়েছে পর্যটকদের কাছে।
জানা গেছে, এসব পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও চট্টগ্রামের আউটার রিং রোড, কর্ণফুলি টানেলের দক্ষিণ প্রান্ত, সিআরবি, ডিসি ফ্লাওয়ার পার্ক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, গুলিয়াখালি সৈকত, চন্দ্রনাথ পাহাড়, ইকোপার্ক, নাপিত্যাছড়া ঝরনা, খৈয়াছড়া ঝরনা, পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্ক, পতেঙ্গার নেভাল রোড পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্য। বর্তমানে এসব কেন্দ্রের প্রায় সবগুলোতে ঈদকে ঘিরে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতিবছর ঈদের আগেই কিছু সংস্কার করা হয়। যাতে পর্যটক ও শিশুরা চিড়িয়াখানায় আসলে সময়টা ভালোভাবে উপভোগ করতে পারেন। এবারও সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন বিকাল থেকেই চিড়িয়াখানা উন্মুক্ত থাকবে। এবার ঈদের পর এক সপ্তাহে লক্ষাধিক দর্শনার্থী আসবে বলে ধারণা করছি।
চট্টগ্রামের নগরীর অন্যতম পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র ফয়’স লেকে নৌকা ভ্রমণের পাশাপাশি রয়েছে রাইড, ওয়াটার পার্ক, পিকনিক স্পট, বেইজ ক্যাম্পসহ বিনোদনের নানা অনুষঙ্গ। এছাড়া পর্যটকদের থাকার জন্য লেকের ভেতরেই হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট আছে। যা দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য স্বস্তিদায়ক।
ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, ইতোমধ্যে পার্কের রাইডগুলো নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। লেকে ভ্রমণের জন্য বেশকিছু ইঞ্জিনচালিত নৌকা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকে পার্ক খোলা থাকবে।
এসব পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয়। সেখান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মনোরম ওয়াকওয়েসহ বিভিন্ন স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া সৈকত সংলগ্ন কর্ণফুলি টানেল পর্যটকদের মধ্যে ভিন্ন আবহ তৈরি করে। ঈদ ছাড়া অন্যান্য ছুটির দিনগুলোতে সেখানে ব্যাপক ভিড় হয়।
টুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পতেঙ্গা সৈকতে ঈদের সময় ব্যাপক লোকসমাগম হওয়ায় সেখানে বাড়তি নজরদারি থাকবে। কোনো পর্যটক অস্বস্তিকর অথবা বিপদের আঁচ করলে জানালে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম তার কাছে পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি টহল পুলিশও মোতায়েন থাকবে।
-B