পর্যটনে রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে ফ্রান্স

-মনিটর অনলাইন Date: 23 February, 2026
পর্যটনে রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে ফ্রান্স

ঢাকাঃ আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ফ্রান্স। পর্যটক আগমনের সংখ্যায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেশটি বিশ্বের শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। 

ঐতিহাসিক নিদর্শন, শিল্প-সংস্কৃতি, রন্ধনপ্রণালি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য সমন্বয়ই প্রতি বছর কোটি কোটি ভ্রমণপিপাসুকে আকর্ষণ করছে এই ইউরোপীয় দেশটিতে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড ১০ কোটি ২০ লাখ পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে দেশটি। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক গেমসের কল্যাণে ফ্রান্সে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা ১০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে। তবে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনলেও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। 

ফ্রান্সের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ১০ কোটি ২০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটকের সমাগম হয়েছে। দেশটিতে আসা বিদেশী পর্যটকদের দুই-তৃতীয়াংশই (৭৬ শতাংশ) ছিল ইউরোপের বাসিন্দা। 

২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আবাসন কেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের রাত্রিযাপনের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। 

পর্যটকদের এ উপচে পড়া ভিড় থেকে ২০২৫ সালে ফ্রান্সের পর্যটন খাতে রেকর্ড ৭ হাজার ৭৫০ কোটি ইউরো আয় হয়েছে। এ আয় ২০২৪ সালের তুলনায় ৯ শতাংশ এবং ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্বের শীর্ষ পর্যটন গন্তব্যের তালিকায় ফ্রান্স ধারাবাহিকভাবে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলেও দেশটিতে ‘ওভারট্যুরিজম’ বা অতিরিক্ত পর্যটকের চাপজনিত সমস্যা খুব একটা প্রকট হয়নি। তবে এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে স্পেনে। 

অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট, আবাসন সমস্যা ও পর্যটকদের অশোভন আচরণের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। 

ফ্রান্সে অতিরিক্ত পর্যটনের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশটির আগাম নেয়া কৌশলগত পরিকল্পনা। কয়েক বছর আগে থেকেই বাস্তবায়ন করা এসব নীতির সঙ্গে অঞ্চল ও মৌসুমভেদে পর্যটন বৈচিত্র্য গড়ে তোলাও এতে সহায়ক হয়েছে। 

এদিকে, প্যারিসের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা মনমার্ত্রের বাসিন্দারা গত গ্রীষ্মে পর্যটনের অতিরিক্ত চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একসময়কার শৈল্পিক ও বোহেমিয়ান সংস্কৃতির জন্য পরিচিত এলাকাটি ক্রমেই কৃত্রিম বাণিজ্যিকীকরণের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। 

অন্যদিকে, প্যারিসের সাক্রে-ক্যুর ব্যাসিলিকা পরিদর্শনে বছরে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ পর্যন্ত দর্শনার্থী আসছে, যা আইফেল টাওয়ারের চেয়েও বেশি। ফলে আশপাশের এলাকায় নিত্যদিনের জীবনযাত্রা ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor