ঢাকা: ডিসকাউন্টে উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা হলেন-চক্রের হোতা লিটন মিয়া, সহযোগী বিল্লাল হোসেন ও রিয়াজ শেখ। যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ডিসকাউন্টে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে জাল টিকিট বিক্রি করতেন তারা। আগ্রহীরা টিকিট কিনে বিমানবন্দরে গিয়ে দেখতেন সেগুলো জাল টিকিট। এভাবে গত কয়েক মাসে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বহু টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। শুক্রবার (১৫ মার্চ) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন উর রশিদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কুয়েত প্রবাসী মজনু মিয়া (৪৫) ২৫ ফেব্রুয়ারি হুমায়ুন কবিরকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানান, তিনি মে মাসে বাংলাদেশে ছুটিতে আসবেন। কুয়েত থেকে বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার টিকিটের দাম বেশি হওয়ায় দেশ থেকে কিনতে বলেন। হুমায়ুন কবিরের কোনো পরিচিত ট্রাভেলস না থাকায় অনলাইনে সানফ্লাওয়ার ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনালের খোঁজ পান, যেখানে ১৫ পারসেন্ট ডিসকাউন্টে (কুয়েত-ঢাকা-কুয়েত) টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
ফেসবুকে দেওয়া সানফ্লাওয়ার ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনালের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ৯ মে বাংলাদেশে আসার এবং ২৩ জুন কুয়েতে যাওয়ার টিকিট দিতে পারবে। ফোনের অপর প্রান্তের লোকটির নাম জানতে চাইলে তিনি তার নাম লিটন মিয়া বলে জানান এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দেখা করতে বলেন। কথামতো ওইদিন বিকাল সাড়ে ৫টায় সেখানে গিয়ে লিটন মিয়ার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনিসহ আরও দুজন অজ্ঞাতনামা এসে হুমায়ুন কবিরকে জানান, ১৫ পারসেন্ট ডিসকাউন্টে কুয়েত থেকে বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার জন্য আলজাজিরার টিকিট দিতে পারবেন। হুমায়ুন তখনই মজনুর সঙ্গে কথা বলে নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও পাসপোর্টের ফটোকপি দেন। বাকি ৪৭ হাজার টাকা লিটনের দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরে পরিশোধ করেন। টাকা পাওয়ার পর চক্রটি মজনুর হোয়াটসঅ্যাপে আলজাজিরা বিমানের টিকিটের কপি পাঠায়। পরে যাচাইকালে দেখা যায়, টিকিটটি জাল। এরপর লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে মজনুকে ব্লক করে দেন।
ডিবি প্রধান আরও বলেন, চতুর্থ শ্রেণি পাশ সাবেক পোশাক শ্রমিক লিটন মিয়া ২০১২ সালে কুয়েতে ড্রাইভার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশে এসে ভিসার কাজ শুরু করেন। পরে একজন লিটনের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশ চলে গেলে তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে প্রতারণায় জড়ান। এর পরিপ্রেক্ষিতে লিটন প্রাথমিকভাবে ফেসবুকে সানফ্লাওয়ার ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি পেজ খুলে ১৫ শতাংশ ডিসকাউন্টে টিকিট বিক্রির কথা বলে পোস্ট দেন। বিভিন্ন বুস্টিং এজেন্সিকে দিয়ে তার এ পোস্ট বুস্ট করান। তার চটকদার বিজ্ঞাপনে বিদেশে কর্মরত শ্রমজীবীরা আকৃষ্ট হয়ে ফেসবুকে দেওয়া ফোন নম্বরের মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। তাদের মধ্য থেকে লিটন টার্গেট বাছাই করে ডিসকাউন্ট দামে টিকিট বিক্রির টোপ ফেলেন।
হারুন উর রশিদ জানান, লিটন কাস্টমারদের তার অফিস সিটি সেন্টারে লিফটের ১১ তে বলে জানান এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেন। অ্যাকাউন্ট নম্বর খোলার জন্য ভগ্নিপতি বিল্লালকে ব্যবহার করেন। লিটনের অবর্তমানে কাস্টমারদের সঙ্গে রিয়াজ কথা বলেন। ক্রেতাদের টাকা পেয়ে তাদের হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করে দেন।
ডিবি প্রধানের দাবি-তদন্তে জানা গেছে কয়েক মাসে লিটন চক্র আনুমানিক চার লাখ লোকের সঙ্গে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রতারণার টোপ ফেলেছে। প্রতি মাসে তার আনুমানিক আয় তিন লাখ টাকা বলে তিনি ডিবিকে জানিয়েছেন। লিটনের নামে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় তিনটি প্রতারণার মামলা ও বরগুনায় একটি নারী নির্যাতনের মামলা রয়েছে।
-B