চট্টগ্রাম : চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার পর থেকে এপ্রিলের শুরুতেও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহে সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসি) কর্তৃপক্ষ এই সমস্যার সমাধান চেয়ে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
৩০ মার্চ জ্বালানিমন্ত্রী বরাবর পাঠানো চিঠিতে বিডব্লিউটিসিসির আহ্বায়ক সফি আহমেদ জানান, জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মেরিন ডিলাররা লাইটার জাহাজে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে লাইটার জাহাজগুলো নিয়মিতভাবে মাদার ভেসেল থেকে মালামাল লোড ও খালাস করতে পারছে না, যা চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটারের সংকট সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পণ্য খালাস ব্যাহত হলে বন্দরে মাদার ভেসেল আসতে অনীহা প্রকাশ করবে। অপরদিকে মাদার ভেসেলের অবস্থানকাল দীর্ঘায়িত হবে, ডেমারেজ চার্জ হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাবে। এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
জেটি এলাকায় গভীরতা কম হওয়ার কারণে মাদার ভেসেলগুলো বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করে বহির্নোঙর থেকেই খাদ্যশস্য, সিমেন্ট ক্লিংকার, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবোঝাই করে লাইটার জাহাজ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।
বিডব্লিউটিসিসির তত্ত্বাবধানে প্রায় ১ হাজার ৫০টি লাইটার রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ৮০-৯০টি চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহন করে। আকার ভেদে একেকটি লাইটারে প্রতি ট্রিপে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার লিটার পর্যন্ত তেল লাগে।
বিডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানান, প্রতিদিন লাইটারের জন্য আড়াই লাখ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫০ হাজার লিটারের মতো। তেল সংকটের কারণে বহির্নোঙরে চাহিদামতো লাইটার পাঠানো যাচ্ছে না। সংকট সমাধানের অনুরোধ জানিয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
লাইটার জাহাজে তেলের সংকট আছে কি না, থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন শিপিং এজেন্টরা।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, নানা কারণে আগে থেকেই লাইটারের কিছুটা অপর্যাপ্ততা ছিল, এখনো আছে। সরকার বলছে দেশে জ্বালানির সংকট নেই। তাহলে লাইটার জাহাজ কেন তেল পাবে না। নাকি কোনো পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব বিষয় সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
-B