তেহরান: ইরানের বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূ-প্রকৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সারা বিশ্বের পর্যটক আকর্ষণ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ খাতে বেশ প্রবৃদ্ধি দেখছে দেশটি। সেই পালে হাওয়া লাগাতে আরো বেশি পর্যটক আকর্ষণ ও পর্যটন থেকে আয় বাড়াতে নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে তেহরান। পরিবর্তন এনেছে ভিসা নীতিতে। এর অংশ হিসেবে এশিয়া, ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের ২৮টি দেশের নাগরিকদের ভিসা-ফ্রি প্রবেশের সুবিধা দিতে যাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি আরব, কাতার ও ভারতসহ নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসা ছাড়াই ইরান ভ্রমণ করতে পারবেন।
ইরান ঘোষিত নতুন এ ভিসা নীতিতে সুবিধা পেতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তিউনিসিয়া, তানজানিয়া, মৌরিতানিয়া, জিম্বাবুয়ে, মরিশাস, সেশেলস, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, কিউবা, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ব্রুনাই, ব্রাজিল, মেক্সিকো, পেরু, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, বেলারুশ ও ভারত।
মধ্যপ্রাচ্যে অন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইরানের বৈরী ভাব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সে বরফ কিছুটা হলেও গলতে শুরু করেছে। ভিসা-ফ্রি তালিকায় দেখা যাচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রভাবশালী আরব দেশের নাম।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, সংসদীয় ও প্রবাসী বিষয়ক ডেপুটি আলি রেজা বিগদেলি জানান, মন্ত্রিসভার নির্বাহী আদেশে নতুন এ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তালিকায় থাকা দেশের নাগরিকরা পর্যটক হিসেবে ইরান ভ্রমণে এলে তাদের ভিসার প্রয়োজন হবে না। এ ভ্রমণ সুবিধা ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
বিগদেলি আরো বলেন, ‘মন্ত্রিসভার নির্বাহী আদেশের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক সংস্থাগুলোকে এরই মধ্যে ভিসা-ফ্রি ভ্রমণের বিষয়টি অবহিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে এসব দেশের নাগরিকের মধ্যে যারা পর্যটক হিসেবে ইরানে আসবেন, তাদের ভ্রমণে ভিসার প্রয়োজন হবে না।’
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই উড়োজাহাজে উঠতে পারবেন। তবে তারা যদি স্থল সীমান্ত দিয়ে ইরানে প্রবেশ করতে চায়, তাহলে ভিসা নিতে হবে।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২১ মার্চ শুরু হওয়া ইরানি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটিতে ৪৪ লাখ বিদেশী প্রবেশ করেছেন। এ সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
-B